যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে সে দেশে বাংলাদেশি পণ্যে আরোপিত শুল্ক কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। পাশাপাশি তিনি জানান, পেপাল বাংলাদেশে আসার বিষয়ে আগ্রহী এবং বিষয়টি নিয়ে তারা ‘ফুললি কনভিন্সড’।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সেখানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ফলাফল তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বলেন, “আশা করি, (শুল্ক) বাড়াচ্ছে না। ২০ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। এখন যেটা আছে, তার চেয়ে ‘বেটার’ হবে, এমন খুব ‘স্ট্রং’ আশ্বাস আমাদের দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ব্যবসা বাড়াতে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এর ফলে দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশ বিষয়টি কনস্ট্রাক্টিভভাবে ডিল করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে যে জায়গা থেকে আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেখানে ৬ বিলিয়ন ডলারের ডেফিসিট ইতোমধ্যে অনেকটাই কমেছে।
লুৎফে সিদ্দিকী জানান, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং ইমেইল যোগাযোগের পর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বর্তমানে বিদ্যমান ২০ শতাংশ রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফে কিছু ইমপ্রুভমেন্ট হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি সেক্টরেও বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহের শেষ দিকে বা আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট খবর পাওয়া যাবে। তখন বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এটুকু বলা যায়, আমাদের কম্বাইন্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি কাজে দিচ্ছে।
পেপালের আগ্রহ
পেপালের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশে পেপাল আসা নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন কারণে তারা আগে এনগেজ করতে চায়নি। গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে একাধিকবার অনুরোধের পর পেপালের একটি সিনিয়র লেভেলের টিম বাংলাদেশে আসে।
দলের মধ্যে ছিলেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান, সাউথ এশিয়ার প্রধানসহ আরও চারজন। তারা চার-পাঁচ দিন ধরে দেশের উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ঢাকায় এসব বৈঠকের পর দাভোসে উচ্চ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো পেপালের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠক হয় বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, আমি কেয়ারফুলি বলছি—পেপাল আগ্রহী, তবে যেকোনও নতুন মার্কেটে ঢোকার জন্য তাদের একটি লম্বা প্রসেস থাকে। সেই প্রসেস শুরু করতে যাচ্ছে তারা। নিজেদের মধ্যে ডিবেট হবে, বোর্ডে আলোচনা হবে।
তিনি আরো বলেন, এখনই ‘পেপাল চলে আসছে’—এমন ধারণা তৈরি করতে তারা চায় না। তবে তার ব্যক্তিগত ইমপ্রেশন হলো, পেপাল বাংলাদেশে আসার বিষয়ে পুরোপুরি কনভিন্সড।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি এবং দেশের রেপুটেশন আগের মতো রিস্কি না—এ বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছে।
অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গ
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংক্রান্ত আলোচনায় লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে দৃশ্যমানভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে কানাডিয়ান হাইকমিশনের অফিস থেকে একবার একটি বস্তাভর্তি প্রায় ৬০০ পাসপোর্ট পাঠানো হয়েছিল, যেগুলো সবই ভিসা আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টরা পাসপোর্ট নিতে না এসে হারিয়ে গেছে বলে জিডি করেন।
তিনি জানান, এ ধরনের একটি চক্র কাজ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।
ভুয়া তথ্য মোকাবিলা
নির্বাচনসংক্রান্ত ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় ফেসবুকের বিশেষ টুলস ব্যবহারের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ফেসবুকের ইলেকশন-রিলেটেড কিছু টুলস রয়েছে, যেগুলো নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ওয়ার্কশপ করেছে বা করবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফেসবুকের সরাসরি ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসি/আপ্র/২৮/০১/২০২৬