গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

মেনু

‘থ্রি জিরো’ দর্শন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:০৪ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২২ এএম ২০২৬
‘থ্রি জিরো’ দর্শন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে ‘থ্রি জিরো’ দর্শন-শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ-প্রচার করে আসছেন, তা কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়; বরং এটি একটি নৈতিক ও নীতিগত অঙ্গীকার। এই দর্শন বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসা, টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক অর্থনীতির বিকল্প পথ হিসেবে আলোচিত। কিন্তু অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর জাতীয় বাস্তবতায় এই ‘থ্রি জিরো’ দর্শনের প্রতিফলন কতা ঘটেছে-সে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।


গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ‘ক্লিন এনার্জি’ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক মানববন্ধনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই থ্রি জিরোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিকভাবে যে প্রচারণা করে থাকেন, জাতীয়ভাবে সেই প্রচারণার পাশাপাশি কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে, এ বিষয়ে আমি মনে করি, দেশবাসী জানতে চাইবে। তাই সরকারের মেয়াদ শেষে শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে মানুষকে এ বিষয়ে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আমরাও মনে করি, সরকারের মেয়াদ শেষে শ্বেতপত্র প্রকাশের যে আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি, তা সময়োপযোগী ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 


অন্তর্বর্তী সরকার স্বভাবতই সীমিত মেয়াদ ও সীমিত ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করে। তবে নেতৃত্বে যখন এমন একজন ব্যক্তি থাকেন, যিনি বৈশ্বিক নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক, তখন প্রত্যাশার মাত্রা বেড়ে যায়। ‘থ্রি জিরো’ দর্শনের প্রথম স্তম্ভ-শূন্য দারিদ্র্য-বাংলাদেশের মতো দেশে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, আয়বর্ধক কর্মসূচি কিংবা বৈষম্য হ্রাসে কী ধরনের নীতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানার অধিকার জনগণের আছে।


দ্বিতীয় স্তম্ভ-শূন্য বেকারত্ব-বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা বিকাশ বা সামাজিক ব্যবসার মডেল বাস্তবায়নে কতা অগ্রগতি হয়েছে, তা যদি নথিভুক্তভাবে উপস্থাপন না করা হয়, তবে এই দর্শন কেবল বক্তৃতা ও সম্মেলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। তৃতীয় স্তম্ভ-শূন্য কার্বন নিঃসরণ-জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ‘ক্লিন এনার্জি’ দিবসে টিআইবির মানববন্ধনের প্রেক্ষাপটে আরো তাৎপর্যপূর্ণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব নীতি ও জলবায়ু ন্যায্যতার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ও কার্যক্রম কী ছিল, সেটিও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা জরুরি।

টিআইবির শ্বেতপত্র প্রকাশের আহ্বান মূলত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং এটি একটি স্বচ্ছতা ও আত্মমূল্যায়নের প্রস্তাব। শ্বেতপত্রের মাধ্যমে সরকার নিজেই যদি সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরে, তবে তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর জন্যও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একই সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ দর্শনের বিশ্বাসযোগ্যতাও জাতীয় পর্যায়ে আরো শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতায়। 


অন্তর্বর্তী সরকার যদি সত্যিই ‘থ্রি জিরো’ দর্শনকে কেবল বৈশ্বিক ব্র্যান্ড নয়, বরং জাতীয় নীতির অংশ হিসেবে দেখতে চায়, তবে টিআইবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশ করাই হবে সবচেয়ে দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ পদক্ষেপ।

সানা/এসি/আপ্র/২৮/০১/২০২৬

 

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই