প্রতারণার দায়ে একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো চীন। পরিবারটির এসব সদস্য মূলত মিয়ানমারে স্ক্যাম (প্রতারণা) সেন্টার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ আটক, প্রতারণা ও জুয়াকেন্দ্র পরিচালনাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন।
মিং পরিবার ছিল সেই কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর একটি, যারা চীন সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ছোট ও নিরিবিলি শহর লাউক্কাইং নিয়ন্ত্রণ করতো। তাদের শাসনামলে দরিদ্র এই জনপদটি ক্যাসিনো ও লাল আলোর ঝলমলে কেন্দ্রে পরিণত হয়।
তবে ২০২৩ সালে তাদের স্ক্যাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লাউক্কাইংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মিং পরিবারের সদস্যদের আটক করে ও পরে তাদের চীনের হাতে তুলে দেয়।
বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমারের এসব স্ক্যাম অপারেশনে হাজার হাজার চীনা শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তারা সেই লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে রয়েছেন, যাদের মানব পাচারের মাধ্যমে এসব কম্পাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ও বিদেশে মানুষকে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়।
গত বছর চীনের ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এক স্বল্পপরিচিত চীনা অভিনেতার ঘটনা। অভিনয়ের কাজের আশায় তিনি থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তাকে মিয়ানমারের একটি স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন ঘটনাগুলো বেইজিংয়ের ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরেই চীন মিয়ানমারের জান্তাকে স্ক্যাম মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দিয়ে আসছিল।
শেষ পর্যন্ত, জান্তা ও জাতিগত সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলেই লাউক্কাইংয়ের মাফিয়াদের পতন ঘটে।
চীনের সর্বোচ্চ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মিং মাফিয়ার স্ক্যাম অপারেশন ও জুয়া কেন্দ্রগুলো ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি আয় করেছিল, যা প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ১ বিলিয়ন পাউন্ডের সমান (১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি)। গত নভেম্বর মাসে আদালত তাদের আপিল খারিজ করে দেয়।
আদালত আরো জানান, মিং পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ১৪ জন চীনা নাগরিক নিহত হন ও আরো বহু মানুষ আহত হন।
সূত্র: এএফপি
এসি/আপ্র/২৯/০১/২০২৬