১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হয়েছে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হয়েছে। সেই মোতাবেক আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
গত ১৯ জানুয়ারি বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪৪৭ হিজরি সনের শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামুল কবীর, উপ-ওয়াক্ফ প্রশাসক মো. আকবর হোসেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি প্রমুখ।
শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। শবে বরাতের পরদিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। এবার এ ছুটি পড়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)। শাবান মাস শেষেই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হয়।
ইসলাম ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ চারটি রাতের অন্যতম শবে বরাতে পরম করুণাময় তার বান্দার জন্য খুলে দেন রহমত আর দয়ার ভাণ্ডার। এই রজনী জানান দেয় রমজানের আগমনী বার্তা।
শবে বরাত এখানে দুটি ভিন্ন ভিন্ন শব্দের সংমিশ্রণ রয়েছে। প্রথম শব্দটি ফারসি যার বাংলা অর্থ হলো রাত। আর দ্বিতীয় শব্দটি আরবি যার বাংলা অর্থ হলো নাজাত পাওয়া, মুক্তি পাওয়া। এ পূর্ণ শব্দটিকে এককথায় এভাবে প্রকাশ করা যায় যে শবে বরাত হলো, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার রাত।
এ রাতে ইবাদত করার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। নবীজি (সাঃ) যুগ থেকে শুরু করে সাহাবা তাবেইন ও তাবে তাবেইন থেকে অদ্যাবধি এ পর্যন্ত এরাতে বিশেষ নফল ইবাদতের আমল ধারাবাহিকতার সঙ্গে চলে আসছে।
এসি/আপ্র/২৯/০১/২০২৬