রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন পুলিশ।
আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান এই রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শামীম এ তথ্য জানান।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রোববার রাতে আনিস আলমগীরকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এ বিষয়ে আনিস আলমগীর গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি ডিবি কার্যালয়ে আছেন। তাকে ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম (ব্যায়ামাগার) থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিয়ে আসা হয়। আটটার দিকে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছান। তাকে বলা হয়, ডিবি প্রধান তার সঙ্গে কথা বলবেন।
আজ সোমবার বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ডিএমপির ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এই মামলায় আনিস আলমগীরসহ আসামি পাঁচজন।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা আছে
আসামি আনিস আলমগীর এক মাস আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে টকশোতে মন্তব্য করেন ‘আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত নেতারা সরকারকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে’। ৩ নং আসামি মেহের আফরোজ শাওন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এ বছরের ২৬ নভেম্বর শেখ হাসিনার লকার থেকে সোনার গয়না উদ্ধারের ঘটনাকে কটাক্ষ করে সরকারবিরোধী পোস্ট দেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘একে বারে তেলেসমাতি কারবার’ বলে মন্তব্য করেন। একই ঘটনায় ৪ নম্বর আসামি ইমতুরা তিশ ইমতিয়াজ তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে ‘এটাই সাইন্স’ বলে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন। এটা ছাড়াও উল্লিখিত আসামিরা অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিভিন্ন প্রকার উসকানিমূলক পোস্ট ও বক্তব্য দিয়ে দেশের জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, অন্য ব্যক্তিকে হত্যার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা এবং অন্য ব্যক্তিকে হত্যা-গুরুতর জখম করার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করার জন্য প্ররোচিত করে।
বাদী ঘটনার বিষয়ে তার পরিচিতজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও তাহাদের অনলাইনে বিভিন্ন মন্তব্যের লিংক সংগ্রহ করে ঘটনার বিষয়ে থানায় এজাহার দায়ের করে। পরে সেটি মামলা হয়।
আসামি আলমগীরকে ডিবি লালবাগ বিভাগ ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সময় স্বল্পতার কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। আসামির সহযোগী অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। ঘটনায় আরো কোনো আসামি জড়িত আছে কি না, তা জানার জন্য আসামিকে ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এসি/আপ্র/১৫/১২/২০২৫