গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

কবিতা------------

হারিয়ে যাওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০২:৪০ এএম ২০২৬
হারিয়ে যাওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়
ছবি

প্রতীকী ছবি

পঙ্কজ শীল====

জীবনে জীবনানন্দ
জীবনের ভিড়ে হেঁটে যাই, তবু কোথাও একা হয়ে থাকি,
শহরের কোলাহলে শুনি ধানের শীষে নরম বাতাসের ডাক।
ক্লান্ত দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা নামে পাখির ডানায়
মনে হয়-ফেলে আসা কোনো গ্রাম এখনো জেগে আছে মায়ায়।
জীবন মানে শুধু পাওয়া নয়, হারানোরও নীল ব্যাকরণ,
কখনো অন্ধকারের ভেতরেই জন্ম নেয় আলোর প্রয়োজন।
একটি শিশিরবিন্দুতে দেখি পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী মুখ
ঝরে যাওয়া পাতারাও যেন বলে-থেমো না, বেঁচে থাকুক সুখ।
নিঃসঙ্গতার পাশে বসে থাকে শালিকের নির্ভীক গান,
মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েও জীবন খোঁজে নতুন প্রাণ।
এই পথ, এই কুয়াশা, এই চাঁদ-সবই যেন আপন হয়ে যায়,
অচেনা নদীর জলে পুরোনো কোনো স্মৃতি ভেসে যায়।
জীবনানন্দের মতো আমিও খুঁজি হারানো সবুজের ঘ্রাণ,
রূপসী বাংলার মাটিতে শুনি মানুষের অনন্ত প্রাণ।
জীবন ক্ষণিক-তবু তার স্বপ্ন আকাশের চেয়েও দীর্ঘ
তাই অন্ধ রাত পেরিয়ে হৃদয় রাখি ভোরের দিকে মুখ,
বেঁচে থাকা মানেই-পৃথিবীকে আরেকবার ভালোবেসে দেখা।
ঘড়ির কাঁটা থামিয়ে বন্দি করতে চেয়েছিলাম সময়

একদিন
একদিন সব কোলাহল পেরিয়ে নেমে আসবে নীরব সন্ধ্যা,
জানালার পাশে বসে মনে পড়বে ফেলে আসা সেই পথ।
যে কথাগুলো বলা হয়নি, তারা শিশির হয়ে ঝরবে
যে মানুষগুলো হারিয়েছে, তারা বাতাসে ফিরে আসবে।
একদিন ব্যস্ত শহরও ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়বে,
নিভে যাবে আলো, তবু আকাশে জেগে থাকবে কোনো তারা।
তখন বুঝব-জীবন আসলে কত অল্প সময়ের
অথচ কত স্বপ্ন জমিয়ে রাখি অনন্তকালের জন্য।
একদিন নদীর মতো আমরাও দূরে চলে যাব
পাড়ে পড়ে থাকবে শুধু আমাদের ছোঁয়া।
কেউ হয়তো মনে রাখবে, কেউ ভুলে যাবে
তবু কোনো বিকেলের বাতাসে ফিরে আসবে আমাদের নাম।
একদিন শুকনো পাতার শব্দে শুনব পুরোনো দিনের ডাক,
মনে হবে-হারিয়ে যাওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
কিছু স্মৃতি মাটির নিচে বীজের মতো বেঁচে থাকে
সময় পেলে তারা আবার সবুজ হয়ে ওঠে,
আর একদিন, খুব নিঃশব্দে, জীবন নিজেকেই নতুন করে চিনবে।
আকাশ তার ভাঙা রৌপ্যপাত্র উল্টে দিয়েছে

পাশের দুঃখটা
পাশের বাড়ির জানালায় আজও আলো জ্বলে
তবু জানি, ভেতরে কেউ নিঃশব্দে কাঁদে।
দরজার পাশে রাখা জুতোর মতো পড়ে থাকে অভিমান,
কেউ দেখে না-হাসির নিচে কতটা ক্লান্তি জমে।
পাশের দুঃখটা কখনো শব্দ করে না
শুধু গভীর রাতে বাতাস হয়ে দরজায় কড়া নাড়ে।
আমরা নিজের ব্যস্ততায় তার পাশ দিয়ে চলে যাই,
অথচ একটি মমতার কথা হয়তো তাকে ভোর দেখাতে পারে।
মানুষের সবচেয়ে বড় একাকিত্ব-ভিড়ের মধ্যেও অদৃশ্য থাকা,
সবাই পাশে থেকেও কেউ পাশে না থাকা।
তাই আজ একটু থামি, প্রতিবেশীর চোখের দিকে তাকাই
হয়তো সেখানে আমাদেরই কোনো হারানো গল্প আছে।
এক কাপ নীরবতা ভাগ করে নিলে দুঃখ হালকা হয়
একটি হাত বাড়ালে অন্ধকারেরও সাহস বাড়ে।
পৃথিবী বদলায় বড় কোনো ঘোষণায় নয়,
কখনো শুধু পাশের মানুষের কষ্টটুকু বুঝে নেওয়ায়
পাশের দুঃখটা তাই পাশ কাটিয়ে নয়-পাশে বসেই শুনতে হয়।
সানা/আপ্র/২২/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্ব সাহিত্যেও পৌঁছেছে জসীম উদ্দীনের গ্রামীণ চিরন্তন ও শাশ্বত রূপ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব সাহিত্যেও পৌঁছেছে জসীম উদ্দীনের গ্রামীণ চিরন্তন ও শাশ্বত রূপ

জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যের এমন এক বিরল ও অনন্য প্রতিভা- যিনি মাটির সোঁদাগন্ধে জড়ানো লোকজ আখ্যানকে...

আসমানী ঝড়ের উপাখ্যান
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসমানী ঝড়ের উপাখ্যান

গল্প===

একগুচ্ছ কবিতা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একগুচ্ছ কবিতা

তোমাকে পাইনি বলেআতিকুর ফরায়েজীতোমাকে পাইনি বলেপৃথিবী থেমে যায়নি,নদীগুলো যথারীতি সাগরের দিকে যায়,শালি...

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে শুনি ধর্মবাণী
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে শুনি ধর্মবাণী

কবিতা--------------

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই