কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা-বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন তাঁর বাবা-মা।
এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগম তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার হয়রানি এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাঁদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাঁদের দুজনের মোবাইল ফোনে কল করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অপ্রতিম কোটবাড়ী এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
এর দুই দিন পর পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমের আরেকটি সন্দেহের কথাও সামনে এসেছে। তিনি একসময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ছিলেন। ওই সময়ে কয়েকজন কিশোর অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার কোনো যোগসূত্র অপ্রতিম হত্যার পেছনে থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিম হত্যা মামলার বাদী তাঁর বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৬/৯/২০২৬