পাবনার বেড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ ও তা তৈরির ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার পেচাকোলা ঘাট এলাকার উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে নকল দুধ তৈরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পলি ঘোষকে (৩৫) এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান। এসময় স্থানীয় থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, ওই এলাকার উত্তম ঘোষ ও তার স্ত্রী পলি ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাড়িতে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকারক সামগ্রী দিয়ে ভেজাল ও নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। আগে থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সেখানে ওৎ পেতে থাকে। পরে উত্তম ঘোষের ঘর থেকে বড় আকৃতির ডেগে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম নকল দুধ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়- নকল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত পাম ওয়েল, ব্লিচিং পাউডার, কেমিক্যাল জেল, খাবার সোডা, গরম ছানার পানি, এক ডেগ ক্রিম, ফ্যাট তোলা দুধ ও ব্লেন্ডার মেশিন।
আদালত আরো জানায়, অভিযানকালে মূল হোতা উত্তম ঘোষকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী পলি ঘোষকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পলি ঘোষ স্বীকার করেন, তিনি ও তার স্বামী নিয়মিতভাবে এসব ক্ষতিকর উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পলি ঘোষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযুক্ত নারী তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তার ঘরে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বাশুড়ির বিষয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে কারাদণ্ড না দিয়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ও নকল দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসি/আপ্র/২৯/৯/২০২৬