একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। শয্যা সংকটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে রেকর্ড ২ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীতে ঠাসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিট। সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আসেন তরুণ সাব্বির ইসলাম। কিন্তু ওয়ার্ডের ভেতরে শয্যা না পাওয়ায় তাকে রাখা হয়েছে বাইরের বারান্দার মেঝেতে। তার মতো আরো অনেক রোগীর ঠাঁই হয়েছে সেখানে।
বন্দরটিলার মো. রুবেল তিন দিন আগে হাসপাতালে এলেও এখনো ওয়ার্ডের ভেতরের শয্যা পাননি। ডেঙ্গুতে তার প্লাটিলেট কমেছে। ক্ষীণকণ্ঠে রুবেল বলেন, ওয়ার্ডের ভেতরের মেঝেও খালি নেই। জায়গা দেবে কোথা থেকে? বাথরুমে যেতে হলে ওয়ার্ডের ভেতরেই যেতে হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। কাগজে-কলমে হাসপাতালটির ডেঙ্গু ইউনিটের শয্যা সংখ্যা ৩০ হলেও সেখানে রোগী থাকছেন প্রায় তিন গুণ। বুধবার সেখানে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল মিলিয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২২২ জন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু রোগী অনেক বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা আরো বেড়েছে। এ কারণে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোনো রোগীকে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
ডেঙ্গু ইউনিটে দেখা যায়, মেঝেতেও রোগী রয়েছেন। সংক্রমণ রোধে প্রতিটি শয্যায় মশারি টানানো হয়েছে। ওয়ার্ডে প্রবেশের মুখে ফটকের বাইরেও একজন রোগীকে মেঝেতে রাখা হয়েছে। এভাবে অন্তত ১০ জন রোগী বারান্দায় শয্যা নিয়েছেন।
রাউজান থেকে আসা অরুণ বড়ুয়া চার দিন ধরে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, জ্বর হওয়ার পর বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছেন। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার পর হাসপাতালে এসেছেন। এখন কিছুটা ভালো আছেন। সম্ভবত আজ তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস হাসপাতালে ১৩ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঁচজন, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সেখানেও শয্যার অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ জন পর্যন্ত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ হাজার ৪৬৬ জন।
সানা/আপ্র/৩০/৯/২০২৬