দীর্ঘ মন্দার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে আবারো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিটকয়েনের দাম ৮৫ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
‘কয়েনমেট্রিক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে বিটকয়েন প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৪ হাজার ২৫৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। দিনের শুরুতে এর দাম একপর্যায়ে ৮৫ হাজার ২২৯ ডলারে পৌঁছায়, যা গত জানুয়ারির শেষদিকের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে বিটকয়েনের সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে মন্দাভাব ছিল। এখন সেই মন্দা কাটতে শুরু করেছে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্লেষণ চলছে।
সোমবার সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স ইউরোপ’ অনুষ্ঠানে ‘বিটওয়াইজ’-এর প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ম্যাট হাউগান বলেন, “আমি মনে করি ক্রিপ্টোর শীতকাল শেষ হয়ে গেছে। এখন ক্রিপ্টো বসন্ত। ক্রিপ্টোর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী বাজার হতে চলেছে।”
চলতি বছরে সার্বিকভাবে বিটকয়েন কিছুটা পতনের মুখে থাকলেও গত পাঁচ দিনে এর দাম বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। আর গত তিন মাসে বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অবশ্য বর্তমান দাম এখনো সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে।
হাউগানের মতে, বাজার কিছুদিন নিম্নমুখী থাকলেও ক্রিপ্টোর মূল ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। এ সময়ে ব্লকচেইনভিত্তিক লেনদেন বেড়েছে এবং ব্ল্যাকরকের মতো বড় কোম্পানিগুলোর সম্পৃক্ততাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার ধারণা, আমরা এমন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলাম, যেখানে মূল ভিত্তির কাঠামোগত উন্নতির পরও দামের চক্রাকারে পতন ঘটেছিল।”
তার ভাষ্য, বছরের শেষদিকে বিটকয়েনের দাম এর মৌলিক উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরো বাড়তে পারে। আগামী বছরও বিটকয়েন বর্তমান রেকর্ড দামের নিচে থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে বিটিআইজির বিশ্লেষকেরা রোববার বলেছেন, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে ৭৫ হাজার ডলারের স্তরটি অক্ষুণ্ণ থাকলে ঊর্ধ্বমুখী ধারার সমর্থকেরা ৯০ হাজার ডলারের দিকে যাওয়ার পথে ৮২ হাজার ডলারের ঘর পেরোনোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন।
সোমবার মার্কিন প্রিমার্কেট লেনদেনে স্ট্র্যাটেজি ও কয়েনবেইসের মতো ক্রিপ্টো-সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারদরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ‘ক্লারিটি অ্যাক্ট’ বিলটি পাস আটকে যাওয়ার পরও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হতো এবং শিল্পখাতের তদারকির দায়িত্ব সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো।
এর আগে গত বছর পাস হওয়া ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’-এর মতো যুক্তরাষ্ট্রের আরো কঠোর আইন ক্রিপ্টোকারেন্সির দামকে সমর্থন জুগিয়েছিল।
তবে ম্যাট হাউগানের মতে, ক্লারিটি অ্যাক্ট পাস না হলেও তা ক্রিপ্টোর দাম বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কারণ আপাতত সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনই এ খাতের নিয়মকানুন নির্ধারণ করবে।
সানা/আপ্র/২৩/৯/২০২৬