দুর্গাপূজার বেচাকেনা বাড়াতে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিং মল রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট, শপিং মল ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের সময়সীমা আবার আগের নিয়মে ফিরে যাবে। তখন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে চিঠি দিয়ে দুর্গাপূজার বেচাকেনার জন্য দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।
চিঠিতে সমিতির নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা রাত ৮টার মধ্যে সারা দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ করে আসছেন। দেশের সংকটকালে জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাটে বেচাকেনা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
সমিতির নেতারা আরও বলেন, ঈদ ও দুর্গাপূজার সময় সাধারণত বেচাকেনা কিছুটা বাড়ে। এ সময়ে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময় বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। তাঁদের ভাষ্য, ইতিমধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরুর পর জ্বালানি সংকট তীব্র হলে গত এপ্রিল মাসে দোকান ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সে সময় ব্যবসায়ীরা রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়েছিলেন। পরে সরকার দোকানপাট বন্ধের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করে। কোরবানির ঈদের আগে সময়সীমা শিথিল করা হয়।
সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট সরকার দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়। তখন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন নির্দেশনার ফলে দুর্গাপূজার কেনাকাটায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি সময় পেলেও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ২২ অক্টোবর পর্যন্তই রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সুযোগ থাকবে।
সানা/আপ্র/৬/১০/২০২৬