গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

হিসাব কষে কেনাকাটায় প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি

দুর্গাপূজার বাজারে হতাশ ব্যবসায়ীরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১১ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৮ এএম ২০২৬
দুর্গাপূজার বাজারে হতাশ ব্যবসায়ীরা
ছবি

পূজার মৌসুমে প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, উৎসবের আবহ থাকলেও মানুষের মনে আর্থিক টানাপড়েন ও উদ্বেগ রয়ে গেছে -ছবি সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কেনাকাটার আমেজ থাকলেও মূল্যবৃদ্ধি ও সীমিত বাজেটের কারণে হিসাব কষেই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। এতে পূজার মৌসুমে প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, উৎসবের আবহ থাকলেও মানুষের মনে আর্থিক টানাপড়েন ও উদ্বেগ রয়ে গেছে।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারে শাঁখা, সিঁদুর, নতুন পোশাক, অলঙ্কার এবং পূজার নানা উপকরণ কিনতে গত কয়েক দিন ধরেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সপ্তমীতেও শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করেছেন অনেকে। দোকানগুলোতে সাজানো রয়েছে পূজার সরঞ্জাম, শাঁখা, সিঁদুর ও দেবীর অলঙ্কার। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে পছন্দের জিনিস দরদাম করে কিনছেন। কেউ কেউ সপ্তমীর পূজা শেষ করেও এসেছেন বাকি কেনাকাটা সারতে।

এদিন মণ্ডপে অঞ্জলি শেষে শাঁখারীবাজারে আসেন গৃহবধূ শিউলী দেবনাথ। তিনি বলেন, “সকালে মণ্ডপে পূজা আর অঞ্জলি শেষ করেই বাজারে ছুটে এসেছি। পূজার বাকি দিনগুলোতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসা থাকবে, তাই শেষ মুহূর্তের কিছু প্রসাধনী আর উপকরণ বাকি ছিল, সেটার কেনাকাটা এখন সেরে নিচ্ছি। অঞ্জলি দিয়ে আসার পর কেনাকাটার আনন্দটাও অন্যরকম লাগে।”

শুধু পুরান ঢাকায় নয়, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকাতেও রয়েছে দুর্গোৎসবের কেনাকাটার আমেজ। তবে পূজার সপ্তমীতে সেখানে আগের মতো উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি। পূজার ছুটিতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন।

শনিবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় ফেরার আগে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিলোয় পাল। মা ও দাদির জন্য বিভিন্ন দোকান ঘুরে দুটি শাড়ি কেনেন তিনি।

নিলোয় বলেন, “পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছি, বাড়ি যাচ্ছি। বিকালে গাড়ি। আমাদের এবারের বেতনটা একটু দেরিতেই হলো। তাই আগে কেনাকাটা করতে পারিনি।

“পূজার সময়ে খালি হাতে বাড়ি যাওয়া যায় না। তাই মা ও দাদির জন্য শাড়ি কিনতে এলাম।”

কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই পূজার উপকরণ, পোশাক, অলঙ্কার ও সাজসজ্জার সামগ্রীর বিক্রি বাড়লেও শেষ মুহূর্তে আরো ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবারের বিক্রি নিয়ে অনেকের কণ্ঠেই হতাশা।

শাঁখারীবাজারের পোশাক ও প্রসাধনীর দোকান ‘আশীর্বাদ’-এর মালিক দীপঙ্কর সুর বলেন, “উৎসবের আমেজ স্পষ্ট হলেও মানুষের মনে কিছুটা টানাপড়েন ও উদ্বেগ রয়ে গেছে। প্রতি বছর পূজায় বিক্রির যে একটা বড় লক্ষ্যমাত্রা থাকে, এবার সেটি পূরণ হয়নি।

“মহালয়ার পর বেচাকেনা কিছুটা বাড়লেও তা খুব একটা সন্তোষজনক নয়।”

শাঁখারীবাজারের আরেক বিক্রেতা সুধীর পাল বলেন, “প্রতিমা সাজানো থেকে শুরু করে ঘরের পূজার জিনিস, সবকিছুতেই কাঁচামালের দাম বাড়তি। আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু ক্রেতারা এসে আঁতকে উঠছেন।

“আগে যিনি পাঁচটি জিনিস কিনতেন, এখন তিনি দুইটি কিনে সারছেন।”

তাঁতীবাজারের স্বর্ণালঙ্কারের দোকানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ দে বলেন, “সোনা ও পিতলের দাম অতিরিক্ত হওয়ায় মানুষ শৌখিন গয়নার বদলে কেবল বাধ্যতামূলক পূজার নিয়ম রক্ষায় ব্যবহৃত জিনিসগুলোই বেশি কিনছেন।”

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ‘পাইকারি বাজার’ দোকানের মালিক রাজীব বিশ্বাস জানান, শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে কাতান, সিল্ক, এমব্রয়ডারি ও জামদানি শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ক্রেতাদের বেশ ভিড় থাকলেও পূজা শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন সেই ভিড় কমেছে।

আগের বছরের তুলনায় বেচাকেনা কেমন হয়েছে, জানতে চাইলে রাজীব বিশ্বাস বলেন, “খুব বেশিও না, খুব কমও না। মাঝামাঝি ব্যবসা হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, মূল্যস্ফীতির কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় ক্রেতাদের বাজেট এবার কমেছে।”

দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা সুবর্ণা রানী দাশ জানান, তিনি তিনটি জামদানি শাড়ি কিনেছেন, প্রতিটির দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা। তাঁর হিসাবে, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি শাড়িতে অন্তত ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। শিশুদের পোশাক ও জুতার দামও তাঁর কাছে বেশি মনে হয়েছে।

সুবর্ণা রানী দাশ বলেন, “আমাদের বাজেট কমেছে, কিন্তু বাজারভর্তি দামি জিনিস। পূজা বলে কথা, না কিনে তো উপায় নেই। বাজারে একটা শাড়ির যে বাজেট নিয়ে এসেছিলাম, তাতে পছন্দসই জিনিস পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচেই নিতে হয়েছে।”

রমা কান্তা নামে আরেক ক্রেতা বলেন, “এবারের কালেকশন ভালো, কিন্তু দামটা একটু বেশি মনে হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে যে শাড়ি পাঁচ হাজার টাকা দেখে গেলাম, সেটা আজকে ১২ হাজার টাকা চাচ্ছে।

“দাম সবকিছুর চড়া। তবে এবারের শাড়ি কালেকশন আমার তেমন ভালো লাগেনি। সব কেমন গত কয়েক বছরের মতোই।”

অন্যদিকে, নিউ মার্কেটের একটি দোকানের কর্মচারী রতন জানান, পূজা ঘিরে কৃত্রিম গয়নার দোকানে চুড়ি, হার ও আংটির বিক্রি বেড়েছে। তিনি বলেন, “পূজা ঘিরে চুড়ি ও গয়না বিক্রি ভালো হয়েছে। চলতি বছরের গত কয়েক মাসের তুলনায় এই মাসে আমরা বেশ ভালো ক্রেতা পেয়েছি।

“এখনো কিছু কাজের অর্ডার আছে, যা কাল-পরশুর মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

দুর্গাপূজার শেষ সময়েও বিক্রি বাড়ার আশা ছাড়ছেন না ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটার সুবিধার্থে মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণিবিতান সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ২৩ অক্টোবর থেকে আবার আগের নিয়মে রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধ করতে হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে চলতি বছর দোকানপাট খোলা রাখার সময়সূচিতে কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান ও বিপণিবিতানে বাড়তি সাজসজ্জার আলো জ্বালানোর ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৮/১০/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের
১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে জাপানের বিনিয়োগকারীদের একটি...

অতিরিক্ত খরচে মদিনা হয়ে রিয়াদ যাচ্ছেন প্রবাসীরা
১৬ অক্টোবর ২০২৬

অতিরিক্ত খরচে মদিনা হয়ে রিয়াদ যাচ্ছেন প্রবাসীরা

ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তি---

দুর্গাপূজায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে আট দিন বাণিজ্য বন্ধ
১৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে আট দিন বাণিজ্য বন্ধ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানে...

পেঁপে-কুমড়া ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে
১৬ অক্টোবর ২০২৬

পেঁপে-কুমড়া ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে

শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও রাজধানীর বাজারে দাম কমেনি। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া অধিকাংশ স...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই