গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত জরুরি

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ২০:৩০ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:২৭ এএম ২০২৬
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত জরুরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ফুট ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস থাকা সত্ত্বেও সামান্য শারীরিক পরিশ্রম বা অলসতার অজুহাতে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার আমাদের নাগরিক সংস্কৃতির এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আত্মঘাতী চিত্র। ঢাকা কিংবা অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ব্যস্ত রাজপথগুলোয় প্রতিদিনের এই দৃশ্য যেন এক অবধারিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। একটুখানি পথ বা সময় বাঁচানোর তাগিদে মানুষ ট্রাফিক আইন ও নিজের সুরক্ষার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ডিভাইডার টপকে বা দ্রুতগতির গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। এই অপরিপক্ব ও বেপরোয়া মানসিকতার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ আর পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে। নগরবাসীর এ আত্মঘাতী প্রবণতা রোধে কেবল চালকদের দোষারোপ করলেই চলবে না; বরং পথচারীদের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

বলা বাহুল্য, প্রতিনিয়ত ঘটে চলা মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে মূলত নাগরিক অসচেতনতার পাশাপাশি নগর কাঠামোর কিছু বাস্তব ত্রুটি সমান্তরালভাবে দায়ী। অনেক ফুটওভার ব্রিজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়, এসকেলেটর বা লিফট বছরের পর বছর অচল থাকে, পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এ ছাড়া হকারদের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তা ঘাটতি ও নারী পথচারীদের ক্ষেত্রে হয়রানির আশঙ্কার কারণে অনেকে ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অন্যদিকে জেব্রা ক্রসিং বা সিগন্যাল মেনে চলার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘শর্টকাট’ মানসিকতা জেঁকে বসেছে। তারা বুঝতে চান না যে, জীবনের চেয়ে কোনো গন্তব্য বা কাজের তাড়া কখনোই বেশি মূল্যবান হতে পারে না। এই খামখেয়ালি আচরণের ফলে একদিকে যেমন পথচারীর জীবন বিপন্ন হয়, অন্যদিকে চালকদের ওপরও মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি হয় এবং অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, একটি নিরাপদ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হলে গাড়ির গতির পাশাপাশি পথচারীর শৃঙ্খলা ও সচেতনতাও সমানভাবে অপরিহার্য। খামখেয়ালি আচরণে আত্মঘাতী সংস্কৃতির স্থায়ী নিরসনে নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নগরীর সব ফুটওভার ব্রিজকে পথচারীবান্ধব করতে হবে। সচল রাখতে হবে এসকেলেটর ও লিফট এবং নিশ্চিত করতে হবে লাইটিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের সুব্যবস্থা রাখতে হবে- যাতে মানুষ সহজেই নিয়ম মেনে পারাপার হতে পারে। আইন অমান্য করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর জরিমানা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে আইনের কঠোর প্রয়োগে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

দারিদ্র্য বিমোচনের ঋণ যখন দারিদ্র্যেরই নতুন ফাঁদ
১৫ অক্টোবর ২০২৬

দারিদ্র্য বিমোচনের ঋণ যখন দারিদ্র্যেরই নতুন ফাঁদ

ক্ষুদ্রঋণের মূল দর্শন ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে পুঁজি তুলে দিয়ে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি, আত্ম...

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক
১৪ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক

জ্বালানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অথচ সরকার নির্ধারিত দামেও যদি রান্নার গ্যাস না মেল...

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা
১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, অসংখ্য পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ সেই উপার্জ...

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত
১২ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে