ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে।
এরপর নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবেও উত্তর আমেরিকার প্রিমিয়ার হয়েছে ছবিটির।
এর আগে ‘নো আদার ল্যান্ড’ প্রামাণ্যচিত্রের সহ-নির্মাতা হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন ইউভাল ও র্যাচেল। এবার ‘নাজা’য় তারা গাজায় বোমা হামলা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির পেছনে থাকা সামরিক ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
ছবিটিতে ইসরায়েলি সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ২৪ জনের বেনামি সাক্ষাৎকারও রয়েছে। ছবিটি নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যা করে নির্মাতারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নির্মাতা ও সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের অবস্থান ব্যবহার করে গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির পেছনে থাকা ব্যবস্থাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করেছেন।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কাজের মাধ্যমে তারা শুধু প্রকাশ্য বক্তব্য নয়, নীরবতার বিষয়টিও সামনে আনতে চেয়েছেন।
নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর পর দর্শকদের সঙ্গে আলোচনায় ইউভাল আব্রাহাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি দেখানোর পেছনে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তার দাবি, গাজায় যে ঘটনাগুলো নিয়ে ছবিতে কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এখনো চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্নভাবে সেই ব্যবস্থাকে সমর্থন ও অর্থায়ন করছে।
ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকেও ছবিটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ছবিটিকে ইহুদিবিদ্বেষী উসকানির সঙ্গে যুক্ত করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন। নির্মাতারা অবশ্য এসব সমালোচনার মধ্যেও ছবিটির বক্তব্য থেকে সরে দাঁড়াননি।
র্যাচেল জোর জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সমাজে গাজা যুদ্ধের বাস্তবতা আড়াল করার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটিকে প্রশ্নের মুখে তোলাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে ইউভাল আব্রাহামের ভাষ্য, ছবিটি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজেদের ইসরায়েলি পরিচয়ই তাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে।
‘নাজা’য় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণের পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক প্রাণহানির বিষয়গুলো নিয়ে সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির নির্মাণকাজ চলে প্রায় তিন বছর ধরে।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ‘নাজা’ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে উত্তর আমেরিকার প্রিমিয়ারের পরও নির্মাতারা ছবিটির বক্তব্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ডিসি/আপ্র/২৮/০৯/২০২৬