দুর্গোৎসবের আনন্দ নিয়ে শৈশব এবং এই সময়ের মধ্যে পার্থক্য টানতে রাজি নন নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত। তার কথায়, ছেলেবেলায় পূজার সময়েও তিনি যেমন আনন্দ করতেন, এখনও এই উৎসব দারুণ উপভোগ করেন। কোনো বয়সেই উৎসবের আনন্দ ফিকে হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই দিনগুলোতে ঢাকার মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছেন পূজা সেনগুপ্ত। গ্লিটজকে তিনি বলেন, মহাসপ্তীর দুইদিনই তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন বনানী, খামারবাড়ি, কলাবাগান, বসুন্ধরা আর উত্তরার মণ্ডপগুলোতে।
তার কথায়, নাচের মঞ্চে ব্যস্ততা চলে প্রায় বছরজুড়ে, তাই দুর্গোৎসবের সময়ে তিনি পুরোপুরি ছুটি কাটাচ্ছেন। সময় দিচ্ছেন পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদেরও। দুর্গাপূজার সময় কোথায় থাকেন জানতে চাইলে গ্লিটজকে নৃত্যশিল্পী বলেন, “আমি সাধারণত পূজায় ঢাকাতেই থাকি।
শনিবার গেলাম এই যে বনানী। এরপর গেলাম খামারবাড়ি। তারপর গেলাম কলাবাগান। ওইদিকটা আর কি ঘুরে আসলাম। প্ল্যান আছে বসুন্ধরা, উত্তরা ওইদিকটা একটু দেখার।” ঢাকার আলোচিত মণ্ডপগুলোর প্রায় সবখানেই যাওয়া হয় কী না জানতে চাইলে পূজা বলেন, “হ্যাঁ, মোটামুটি চেষ্টা করি যতটুকু।
খুব ভিড় যেগুলোতে হয়, সেগুলোতে ইচ্ছা থাকলেও হয়তো অনেক সময় ঢুকতে পারি না। ভিড় এড়িয়ে ঘুরে ঘুরে দেখি।” ছেলেবেলা পূজা আর আমেজে কী একই রকম? পূজা বলেন, “এই তুলনাটা আমি কখনো করি না।
আমার কাছে মনে হয় যে আমি আমার ছোটবেলাটা যেমন এনজয় করেছি, আমি আমার এখনকার যে বেলা, আমি এখনও ছোটই। ছোটবেলা তো শেষ হয়নি! তাই এই বেলাটাও আমি এখন অনেক এনজয় করছি।
“আর এই তুলনাটা আমি কেন জানি কোনোদিনই করিনি। আমি আমার জীবনে যতই এগিয়ে গেছি, আমার জীবনকে আরও সুন্দর মনে হয়েছে, আরও আনন্দময় মনে হয়েছে।”
নিজের জীবনদর্শন নিয়ে পূজার কথায়, “গোলাপের পাপড়ি একটা একটা করে যেভাবে অনাবৃত করলে যেমন তার সুরভিটা অনেক বেশি পাওয়া যায়, জীবনটা আমার কাছে সেরকম। যত আমি সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, যত বড় হচ্ছি, বড় তো হচ্ছি না, ছোটই আছি।
সেই জীবনটাকে আসলে আমার আরও অনেক সুন্দর মনে হচ্ছে। এটাই আমার জীবন দর্শন।” আগামি কাজের পরিকল্পনা জানতে চাইলে পূজা বলেন, “এখন বলা যাবে না, এখন আমার ভ্যাকেশন চলছে। ভ্যাকেশনের মধ্যে কাজের কথা বলব না।
আমি তো কোনো কাজ করছি না। পূজায় আমি সব ছুটি পেয়েছি। এটা একদম পরিবারকে দেওয়ার টাইম। তো আমি সেটাই করছি। কাজের কথা পূজা শেষ হলে তখন বলব।”
পূজা রেপার্টরি ডান্স থিয়েটার ‘তুরঙ্গমী’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশের নাচের নিজস্ব ধারা নির্মাণ ও নাচে পেশাদারিত্ব অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এই দল।
তার নির্দেশিত ড্যান্স থিয়েটার ও কোরিওগ্রাফির মধ্যে রয়েছে ‘ওয়াটারনেস’, ‘অনামিকা সাগরকন্যা’, ‘নন্দিনী’, ‘হোচিমিন’, ‘অদম্য’, ‘ধরা তরু কাব্য’, ‘অরণ্যা’ ও ‘রেজুলিউশন’। নাচ নিয়ে তিনি বিশ্বের বহু দেশে ভ্রমণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে। ‘হোচিমিন’ প্রযোজনার জন্য ২০২২ সালে ভিয়েতনাম সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘ফ্রেন্ডশিপ মেডেল’ পেয়েছেন পূজা।
ডিসি/আপ্র/১৯/১০/২০২৬