গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মাত্র এক বাসিন্দার দেশ, আছে রাজা-মুদ্রা-পাসপোর্ট

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:০১ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৪ এএম ২০২৬
মাত্র এক বাসিন্দার দেশ, আছে রাজা-মুদ্রা-পাসপোর্ট
ছবি

দেশটির নাম ‘প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড’

সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি দুর্গ। আয়তন এতটাই কম যে প্রায় দুই টেনিস কোর্টের সঙ্গে তুলনা করা হয়। অথচ সেই দুর্গেরই রয়েছে নিজস্ব পতাকা, সংবিধান, মুদ্রা, পাসপোর্ট, ডাকটিকিট, জাতীয় সংগীত এমনকি রাজপরিবারও। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—একসময় সেখানে ২৭ জনের বসবাসের কথা বলা হলেও বর্তমানে স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র একজন।

নাম ‘প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড’। ইংল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে উত্তর সাগরের ওপর অবস্থিত এই অদ্ভুত ভূখণ্ডটি আসলে কোনো প্রাকৃতিক দ্বীপ নয়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী নির্মিত একটি পুরোনো সমুদ্র দুর্গ।

যুদ্ধের সময় তৈরি হয়েছিল দুর্গ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বিমান ও সমুদ্রপথের হামলা ঠেকাতে ব্রিটেন উত্তর সাগরে বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক দুর্গ নির্মাণ করে। সেগুলোর একটি ছিল ‘রাফস টাওয়ার’। যুদ্ধের সময় সেখানে শতাধিক নৌসেনা অবস্থান করতেন।

যুদ্ধ শেষ হলে দুর্গটির সামরিক গুরুত্বও শেষ হয়ে যায়। ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ বাহিনী সেটি ছেড়ে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন উত্তর সাগরের বুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বিশাল ধাতব কাঠামোটি।

কিন্তু ১৯৬৭ সালে বদলে যায় দুর্গটির ইতিহাস।

দুর্গ দখল করে স্বাধীনতার ঘোষণা
১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর প্যাডি রয় বেটস রাফস টাওয়ার দখল করেন। তাঁর প্রথম উদ্দেশ্য ছিল সেখানে একটি জলদস্যু বেতারকেন্দ্র চালু করা। পরে তিনি আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন।

রয় বেটস ঘোষণা করেন, দুর্গটি আর ব্রিটেনের অংশ নয়। তিনি এর নাম দেন ‘প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড’ এবং নিজেকে এর শাসক ঘোষণা করেন।

এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সিল্যান্ডের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আদল। তৈরি হয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সংগীত, পাসপোর্ট, ডাকটিকিট ও মুদ্রা। বেটস পরিবারই হয়ে ওঠে এই স্বঘোষিত রাষ্ট্রসত্তার শাসক পরিবার।

রয় বেটসের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মাইকেল বেটস শাসনভার গ্রহণ করেন।

একসময় ২৭, এখন স্থায়ী বাসিন্দা একজন
সিল্যান্ডের জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পুরোনো কিছু সূত্রে একসময় সেখানে ২৭ জন বাসিন্দার কথা বলা হয়েছে। এ কারণেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে সিল্যান্ডকে ‘২৭ জনের দেশ’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্য আরও বিস্ময়কর। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন মাত্র একজন। তবে সিল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা একজন—বিষয়টি এমন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিল্যান্ডের নাগরিক ও সমর্থকদের একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। দুর্গে স্থায়ীভাবে বসবাস আর সেই সম্প্রদায়ের সদস্যসংখ্যা এক বিষয় নয়।

নিজস্ব মুদ্রা, রাজপরিবারও আছে
সিল্যান্ডের নিজস্ব মুদ্রার নাম ‘সিল্যান্ড ডলার’। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা প্রচলিত মুদ্রা নয়; মূলত প্রতীকী ও সংগ্রহযোগ্য মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সিল্যান্ডের রয়েছে নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বেটস পরিবার বংশানুক্রমে সেখানে রাজপরিবারের ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের সরকারি প্রচারেও পতাকা, সংবিধান, মুদ্রা, পাসপোর্ট ও রাজপরিবারসহ একটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হয়।

এমনকি দুর্গটিকে কেন্দ্র করে তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও বিভিন্ন প্রতীকী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা হয়েছে।

তাহলে কি সত্যিই একটি দেশ?

সিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় রহস্য এখানেই।

সিল্যান্ড নিজেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিকভাবে এটি স্বীকৃত কোনো দেশ নয়। জাতিসংঘের সদস্যও নয়। বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

তাই আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রচলিত ধারণায় সিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্রের বদলে সাধারণত ‘মাইক্রোনেশন’ বা স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসত্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

তবে সিল্যান্ডের ইতিহাসে কিছু আইনি ঘটনাও তাদের দাবিকে আলোচনায় এনেছে। ১৯৬৮ সালে সিল্যান্ডের কাছাকাছি একটি ঘটনায় ব্রিটিশ আদালত দুর্গটির ওপর নিজেদের এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারেনি। সিল্যান্ডের সমর্থকেরা ঘটনাটিকে তাদের স্বাধীনতার দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। কিন্তু ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সমতুল্য নয়।

১৯৭৮ সালে ‘অভ্যুত্থান’
সিল্যান্ডের ইতিহাসে ১৯৭৮ সালের ঘটনাটিও বেশ নাটকীয়। একদল জার্মান ও ডাচ ভাড়াটে যোদ্ধা দুর্গটি দখল করে নেয় এবং মাইকেল বেটসকে জিম্মি করে। পরে রয় বেটসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুর্গটি পুনর্দখল করা হয়।

এই ঘটনার পর সিল্যান্ডের অদ্ভুত ‘দেশ’ হিসেবে পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দুর্গে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার উদ্যোগ নিয়েও সিল্যান্ড আলোচনায় এসেছে।

আজও উত্তর সাগরের বুকে সেই ছোট্ট দুর্গটি টিকে আছে। আয়তনে ক্ষুদ্র, স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র একজন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও নেই—তবু নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা, পাসপোর্ট, রাজপরিবার ও কয়েক দশকের বিচিত্র ইতিহাসের কারণে সিল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসত্তা। সূত্র: সিবিএস নিউজ
সানা/আপ্র/৪/৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেড় হাত চওড়া, তবু তা পূর্ণাঙ্গ একটি বাড়ি
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেড় হাত চওড়া, তবু তা পূর্ণাঙ্গ একটি বাড়ি

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে দুটি ভবনের মাঝখানে সরু এক ফালি জমিতে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক বাড়ি। নাম ‘...

২২৮ বছরের রেস্তোরাঁয় খেয়েছেন ডিকেন্স, ম্যাডোনাও
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২২৮ বছরের রেস্তোরাঁয় খেয়েছেন ডিকেন্স, ম্যাডোনাও

প্রখ্যাত সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্স থেকে ‘পপ কুইন’ ম্যাডোনা—অতিথি তালিকায় এমন সব বিখ্যাত নাম থাকলে যে...

শিশুর চেয়ে প্রবীণ বেশি, বদলে যাচ্ছে বিশ্বজনসংখ্যা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুর চেয়ে প্রবীণ বেশি, বদলে যাচ্ছে বিশ্বজনসংখ্যা

বিশ্ব জনসংখ্যার চিত্রে ঘটেছে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। নথিভুক্ত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছ...

নতুন ইতিহাস রচনার পথে যাত্রা করছেন জসিম-শান্তা দম্পতি
২২ আগস্ট ২০২৬

নতুন ইতিহাস রচনার পথে যাত্রা করছেন জসিম-শান্তা দম্পতি

প্রশাসনের উচ্চমার্গে রদবদল ও যোগ্য নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি সর্বদা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই