মূল চাকরির পাশাপাশি বিকল্প পেশা, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিংবা নিজস্ব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা চালু করছে পেশাদারদের নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন। ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের আয়ের সুযোগ বাড়াতেও নতুন ফিচার যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা একই প্রোফাইলে একাধিক চাকরি বা কাজের তথ্য তুলে ধরতে পারবেন। নতুন ব্যবসার উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য যুক্ত হচ্ছে বিশেষ কনটেন্ট তৈরির সরঞ্জামও। নেটওয়ার্কিংকে আরো স্বাভাবিক ও কার্যকর করতেই এসব উদ্যোগ নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিংকডইন ‘নেটওয়ার্ক’ নামে নতুন একটি ফিড পরীক্ষা করছে। এতে অ্যালগরিদমের সুপারিশের পরিবর্তে ব্যবহারকারীর পরিচিত ব্যক্তি এবং অনুসরণ করা অ্যাকাউন্টগুলোর হালনাগাদ দেখা যাবে।
বাস্তব জীবনে নতুন কারো সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুবিধার্থে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হচ্ছে ‘বিজনেস কার্ড’ সুবিধা। এটি ফোনের ওয়ালেটে সংরক্ষণ করে রাখা যাবে।
উদ্যোক্তাদের আয় বাড়াতে ‘অ্যাডভাইস সেশনস’ নামে নতুন একটি ফিচারও চালু করতে যাচ্ছে লিংকডইন। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট ফি নিয়ে একক পরামর্শ সভা পরিচালনা করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য সুবিধাটি চালু হচ্ছে। এসব সেশন থেকে অর্জিত আয়ের কোনো অংশ লিংকডইন কেটে নেবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারে বিশ্বজুড়ে কাজের ধরন ও পেশাগত সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্ল্যাটফর্মে এসব পরিবর্তন আনছে লিংকডইন।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রোফাইলে নিজেদের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি, মূল চাকরির পাশাপাশি একাধিক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকা কিংবা ভিন্ন পেশায় কাজ করার তথ্য প্রকাশের প্রবণতাও বেড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে নতুন উদ্যোগ শুরু করা সহজ হয়েছে, নাকি শ্রমবাজারের অস্থিরতায় মানুষ বিকল্প আয়ের দিকে ঝুঁকছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে লিংকডইনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা হরি শ্রিনিবাসন বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি মানুষ নতুন ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করছেন।
তবে এ পরিবর্তনের পেছনে কোন কারণটি প্রধান, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সফটওয়্যারের কোড লেখা এবং একটি সফল ব্যবসা গড়ে তোলা এক বিষয় নয়।
শ্রিনিবাসন বলেন, “আপনি এআই দিয়ে উদ্ভাবন বা প্রযুক্তি তৈরি করে ফেলতে পারেন, তবে এটা পূর্ণাঙ্গ ব্যবসা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে খুব বেশি সহজ করে দিয়েছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।”
সানা/আপ্র/১৭/১০/২০২৬