ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যায়। এ সময় ককপিটে থাকা প্রধান পাইলটকে সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করেন। আহত অবস্থায় প্রধান পাইলট ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে বিকল্প পাইলট দল উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করায়।
নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং তিনি উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীর ব্যক্তিগত তথ্য থেকে তার উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চান না তিনি।
ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট দ্রুত নিচে নেমে যায়। আহত হওয়ার পরও প্রধান পাইলট ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হওয়ায় যাত্রী ও ক্রুরা সহকারী পাইলটকে কাবু করতে পারেন। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
হামলাকারীকে কাবু করে বেঁধে ফেলার পর তিনি কর্মীদের ‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিলেন বলে নেতানিয়াহু দাবি করেন। তাঁর মতে, এ আচরণ থেকে হামলাকারীর আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত কি না, কিংবা এর পেছনে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইসরায়েলও পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত করছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর প্রধান পাইলট ও সহকারী পাইলট দুজনকেই বৃহস্পতিবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। সৌদি ও আমিরাতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনার প্রাথমিক তদন্তও করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ঘটনার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি তদন্তকারীরা ইরানের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ শনাক্ত করার কথা জানাননি। নেতানিয়াহুও বলেছেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো সময় এখনো আসেনি।
এদিকে উড়োজাহাজটির ভারতীয় প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ করে দেওয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬