গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

মায়ের গর্ভেই শিশুর ফুসফুসের টিউমার ধ্বংস, নতুন চিকিৎসাপদ্ধতিতে সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৯ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৯ এএম ২০২৬
মায়ের গর্ভেই শিশুর ফুসফুসের টিউমার ধ্বংস, নতুন চিকিৎসাপদ্ধতিতে সাফল্য
ছবি

আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানে ভ্রূণের ফাইল ছবি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির সিপিএএম (সিপাম) নামে পরিচিত বিরল জিনগত ত্রুটি ছিল -ছবি এএফপি

মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর ফুসফুসের বড় টিউমার অস্ত্রোপচার ছাড়াই সংকুচিত করতে সক্ষম হয়েছেন চীনের একদল চিকিৎসক। এ ক্ষেত্রে তাঁরা ব্যবহার করেছেন মাইক্রোওয়েভ শক্তির সাহায্যে টিউমার ধ্বংস করার বিশেষ পদ্ধতি। চিকিৎসার মাত্র তিন দিনের মধ্যে টিউমারটি উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে আসে। একই সঙ্গে শিশুর পেটে জমে থাকা বিপজ্জনক তরলও পুরোপুরি সরে যায়। গর্ভস্থ শিশুর বিরল জন্মগত সমস্যার চিকিৎসায় এ সাফল্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, একটি ঘটনার ভিত্তিতে পদ্ধতিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাময়িকী ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিকিৎসার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সী এক নারীর গর্ভে থাকা শিশুটি ফুসফুসের বিরল জন্মগত ত্রুটিতে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে বলা হয় ‘কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন’, সংক্ষেপে সিপিএএম।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার গর্ভধারণের মধ্যে প্রায় একটিতে এ ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক টিস্যু দ্রুত বড় হয়ে শিশুর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গর্ভেই মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে ওই শিশুর টিউমারটি প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার বড় হয়ে গিয়েছিল। এটি শিশুর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে চেপে ধরছিল। একই সঙ্গে শিশুর পেটে বিপজ্জনক পরিমাণ তরল জমে থাকার বিষয়টিও চিকিৎসকদের নজরে আসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁরা প্রচলিত চিকিৎসার বাইরে একটি বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।

সুইয়ের মাধ্যমে টিউমারে তাপ প্রয়োগ
চিকিৎসকেরা মায়ের পেটের ওপর দিয়ে একটি সরু সুই প্রবেশ করিয়ে সেটি গর্ভস্থ শিশুর ফুসফুসের টিউমারে পৌঁছান। এরপর সুইয়ের মাধ্যমে টিউমারের ভেতরে মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করা হয়। এ শক্তি টিস্যুর পানির অণুগুলোকে কম্পিত করে প্রচণ্ড তাপ তৈরি করে। সেই তাপে অস্বাভাবিক টিস্যু ভেতর থেকে ধ্বংস হয়ে যায়।

চিকিৎসাপদ্ধতিটির নাম মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন। এতে জরায়ু কেটে খোলার প্রয়োজন হয়নি। চিকিৎসার তিন দিনের মধ্যেই টিউমারটি উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে আসে এবং শিশুর পেটে জমে থাকা তরল সম্পূর্ণ সরে যায়। গবেষণায় প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গর্ভধারণের ৩৭তম সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯ কেজি।

গর্ভস্থ শিশুর সিপিএএম চিকিৎসায় মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন ব্যবহারের এটিই প্রথম প্রকাশিত ঘটনা বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, অস্ত্রোপচার ছাড়াই গর্ভের ভেতরে এমন জটিল সমস্যার চিকিৎসা করা সম্ভব হওয়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

প্রচলিত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা
সিপিএএমের চিকিৎসায় এখনো সব রোগীর জন্য প্রযোজ্য কোনো একক আদর্শ পদ্ধতি নেই। পরিস্থিতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকেরা গর্ভবতী মাকে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। আবার টিউমারের মধ্যে তরলপূর্ণ বড় সিস্ট তৈরি হলে মায়ের পেট ও জরায়ুর মধ্য দিয়ে সুই প্রবেশ করিয়ে নল বসিয়ে সেই তরল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ ধরনের চিকিৎসার পর কিছু ক্ষেত্রে সময়ের আগে শিশুর জন্মের ঝুঁকি থাকে।

জটিল পরিস্থিতিতে ভ্রূণের আক্রান্ত ফুসফুসের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পদ্ধতিও রয়েছে, যা ফিটাল লোবেকটমি নামে পরিচিত। এতে জরায়ু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুলে গর্ভস্থ শিশুর টিউমার অপসারণ করে আবার শিশুটিকে জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর একটি গবেষণার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়া মায়েদের সন্তানদের বেঁচে থাকার হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

সাফল্য আশাব্যঞ্জক, তবে প্রয়োজন আরো গবেষণা
চীনের চিকিৎসকদের এ সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও তাঁরা নিজেরাই সতর্ক করেছেন, একটি মাত্র ঘটনার ভিত্তিতে নতুন পদ্ধতিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায় না। ভবিষ্যতে আরো রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে এর ফলাফল, সম্ভাব্য জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যাচাই করতে হবে।

পদ্ধতিটি নিরাপদ, পুনরায় প্রয়োগযোগ্য এবং কার্যকর প্রমাণিত হলে সিপিএএমে আক্রান্ত গর্ভস্থ শিশুদের চিকিৎসায় এটি নতুন বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে টিউমার দ্রুত বড় হয়ে শিশুর জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে, সেখানে এ ধরনের কম কাটাছেঁড়ার চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ অগ্রগতি তাই নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে এখনই এটিকে সব গর্ভস্থ শিশুর জন্য প্রতিষ্ঠিত বা নিয়মিত চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট; চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি।
সানা/আপ্র/৯/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফোর্ট হুডে ১৩ হত্যার দায়ে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী
০৯ অক্টোবর ২০২৬

ফোর্ট হুডে ১৩ হত্যার দায়ে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে মার্কিন...

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ...

মোদির সঙ্গে পুরো জাতির সমস্যা : ধ্রুব রাঠী
০৮ অক্টোবর ২০২৬

মোদির সঙ্গে পুরো জাতির সমস্যা : ধ্রুব রাঠী

ভোট চুরি, ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞা...

যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার বোমা হামলায় ৩৩ জন নিহত
০৮ অক্টোবর ২০২৬

যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার বোমা হামলায় ৩৩ জন নিহত

ইউক্রেনের দনবাস প্রদেশের দোনেৎস্কের ক্রামাতোর্সকে দুটি বাসে বোমাবর্ষণ করেছে রুশ সেনারা। এতে ৩৩ জন নি...

সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে সিরিয়া
০৮ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে সিরিয়া

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যে প্রধান মিত্র সৌদি আরবে সামরিক সহায়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই