গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দুর্গা প্রতিমায় লাগে গোবর, গোমূত্র, গঙ্গাপলির সঙ্গে পতিতালয়ের মাটিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৪ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৯ এএম ২০২৬
দুর্গা প্রতিমায় লাগে গোবর, গোমূত্র, গঙ্গাপলির সঙ্গে পতিতালয়ের মাটিও
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা মানেই ঢাকের বাদ্যি, ধূপের গন্ধ, আলোর সাজ আর মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা। প্রতি বছর এই চার দিনের জন্য দুর্গা কৈলাস থেকে নিজের বাপের বাড়িতে আসেন। তাকে ঘিরেই মর্ত্যে শুরু হয়ে যায় উৎসব। কিন্তু দেবীর প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি রীতি বহু মানুষের কৌতূহল জাগায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বাংলার দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে গঙ্গার পলিমাটির পাশাপাশি পতিতালয়ের মাটিও ব্যবহার করা হয়। কোথাও এই মাটি প্রতিমা তৈরির মূল মাটির সঙ্গে মেশানো হয়, কোথাও এই রীতির প্রতীকী গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কিন্তু যে সমাজ পতিতাদের নানা সময়ে অবহেলা ও বৈষম্যের চোখে দেখে, ওই সমাজের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসবের প্রতিমা তৈরিতে তাদের বসতির মাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? এর পেছনে রয়েছে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি বহুল আলোচিত ব্যাখ্যা। তবে এই রীতির উৎস ও শাস্ত্রীয় ভিত্তি নিয়ে প্রচলিত সব বক্তব্যের পক্ষে সমানভাবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বিশ্বাসের কথা বলার পাশাপাশি ইতিহাস ও লোকাচারের পার্থক্য বোঝাও জরুরি।

কী এই ‘পুণ্যমাটি’: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দুর্গার মূর্তি তৈরিতে গঙ্গার পলিমাটি, গোবর, গোমূত্র ও পতিতালয়ের মাটির ব্যবহারের কথা বলা হয়। এই উপাদানগুলোর সঙ্গে সাধারণ মাটি মিশিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয় বলে প্রচলিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া নর্তকী, কাপালিনী, গোয়ালিনী, মালিনী, পতিতা, ধোপানি, নাপিতনি, ব্রাহ্মণী ও শূদ্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত মাটির উল্লেখও কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়। বাংলার দুর্গা প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যৌনপল্লির মাটি ব্যবহারের যে রীতি প্রচলিত, সেটি অনেক জায়গায় ‘পুণ্যমাটি’ বা ‘নিষিদ্ধপল্লির মাটি’ নামে পরিচিত। লোক বিশ্বাস অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কয়েক ধরনের উপাদানের মধ্যে এই মাটিও একটি। প্রচলিত রীতি অনুসারে এই মাটি জোর করে নেওয়া বা টাকা দিয়ে কেনার বিষয় নয়। পুরোহিত বা প্রতিমাশিল্পী মন্ত্র উচ্চারণ করে যৌনপল্লির বাসিন্দাদের কাছে মাটি চাইতে যান। তারা স্বেচ্ছায় ও প্রসন্নচিত্তে মাটি দান করলে তা গ্রহণ করা হয় বলে লোকাচারে বর্ণিত রয়েছে। তবে সব অঞ্চলে বা সব প্রতিমাশিল্পীর কাছে রীতিটি একইভাবে পালিত হয় না। কোথাও অল্প মাটি মূল মাটির সঙ্গে মেশানো হয়, আবার কোথাও এই প্রথা প্রতীকীভাবে স্মরণ করা হয়। এই রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বহুল প্রচলিত ব্যাখ্যা। বলা হয়, পুরুষেরা পতিতালয় গিয়ে নিজেদের পুণ্য সেখানে রেখে আসে এবং পাপ নিয়ে ফিরে যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই পতিতালয়ের মাটিকে পুণ্যময় বলে মনে করা হয়। তবে এটি মূলত প্রচলিত লোককথা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার অংশ।

সমাজের চোখে যারা ব্রাত্য, দেবীর কাছে কি তারাও সমান: এই প্রথার সবচেয়ে আলোচিত ব্যাখ্যাটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে। সমাজের একটি অংশ যখন পতিতাদের অবজ্ঞা করে, তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখে, তখন তাদের বসতির মাটি দুর্গা প্রতিমায় ব্যবহারের রীতিকে অনেকে প্রতীকী তাৎপর্যে দেখেন। তাদের মতে, দেবীর আরাধনায় এই মাটির উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, সমাজ যাদের প্রান্তে ঠেলে রাখে, তারাও সমাজেরই অংশ। দুর্গাকে মাতৃরূপে কল্পনা করা হয়। সেই মাতৃভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে অনেকে বলেন, দেবীর কাছে সন্তানদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকার কথা নয়। এই ব্যাখ্যায় যৌনপল্লির মাটি গ্রহণ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং সামাজিক অবজ্ঞা ও বৈষম্য নিয়ে ভাবারও উপলক্ষ। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-মাটি ব্যবহারের রীতির অর্থ নিয়ে মানুষের ব্যাখ্যা এক রকম নয়। তাই একে একমাত্র বা চূড়ান্ত ধর্মীয় ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার বদলে লোকাচার, বিশ্বাস ও সামাজিক চিন্তার মিলিত প্রকাশ হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

কীভাবে সংগ্রহ করা হয় এই মাটি: প্রচলিত বর্ণনায়, প্রতিমা তৈরির জন্য পতিতালয়ের থেকে মাটি সংগ্রহ করার একটি বিশেষ রীতির কথা বলা হয়। কোথাও পুরোহিত বা প্রতিমাশিল্পীর উদ্যোগে এই মাটি সংগ্রহ করা হয়। মাটি চাওয়া, তা গ্রহণ করা এবং প্রতিমা তৈরির উপকরণের সঙ্গে মেশানোর মধ্যে ধর্মীয় আচারের গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। লোকাচারে স্বেচ্ছায় মাটিদানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণিত হয়। অর্থাৎ এই প্রথার প্রচলিত ব্যাখ্যায় মাটি সংগ্রহের পাশাপাশি দানকারীর সম্মতি ও সদিচ্ছার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পৌরাণিক কাহিনি: দেবী পুরাণের উল্লেখ করে প্রচলিত একটি কাহিনিতে বলা হয়, এক কিশোরী পতিতাকে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে কেঁদে না ফেলার আশ্বাস দেন এবং বলেন, তার পূজায় সেই কিশোরীর আঙিনার মাটি প্রয়োজন হবে। এই কাহিনির ব্যাখ্যায় বলা হয়- সমাজ যাদের দূরে ঠেলে দেয়, মহামায়া তাদেরও মমতায় আপন করে নেন। আরেকটি পৌরাণিক ও জনপ্রিয় কাহিনি অনুসারে একবার কয়েকজন যৌনকর্মী গঙ্গায় স্নান করতে যাচ্ছিলেন। পথে তাদের চোখে পড়ে গঙ্গার তীরে বসে থাকা এক কুষ্ঠরোগী। তিনি অন্যদের কাছে অনুরোধ করছিলেন, যেন তাকে গঙ্গায় স্নান করতে সাহায্য করা হয়। কিন্তু কেউ তার দিকে এগিয়ে আসছিলেন না। তখন ওই নারীরা তার প্রতি করুণা দেখিয়ে তাকে গঙ্গাস্নানে সাহায্য করেন।

পাপ-পুণ্যের ধারণা থেকে যে ব্যাখ্যা: এই রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পাপ-পুণ্য নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত লোকবিশ্বাস। বলা হয়, পুরুষরা যৌনপল্লিতে গিয়ে নিজেদের পুণ্য সেখানে রেখে আসে এবং পাপ নিয়ে ফিরে যায়। ওই ধারণা থেকেই যৌনপল্লির মাটিকে পুণ্যময় বলে বিবেচনা করা হয়- এমন ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য বা সর্বজনস্বীকৃত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি লোককথার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া একটি ধারণা। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

দাম্পত্য কলহ ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ই পরকীয়া বিস্তারের কারণ
১২ অক্টোবর ২০২৬

দাম্পত্য কলহ ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ই পরকীয়া বিস্তারের কারণ

পরকীয়া বর্তমানে ক্রমবর্ধমান একটি সামাজিক ও নৈতিক সমস্যা। এক সময় যে বিষয়টি সমাজে অত্যন্ত গোপন ও নিন্দ...

প্রযুক্তির বিস্তারে হারিয়েছে ডাকপিয়ন আর চিঠি আসার অপেক্ষা
১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তির বিস্তারে হারিয়েছে ডাকপিয়ন আর চিঠি আসার অপেক্ষা

‘চিঠি এসেছে চিঠি’- এক সময় ডাকপিয়নের এমন ডাকাডাকি শুনলেই বাড়ির উঠানে ছুটে আসতেন অনেকেই। কারো অপেক্ষা...

ভিন্ন স্বাদের সাবুদানার মজাদার খিচুড়ি ও পাকোড়া
১২ অক্টোবর ২০২৬

ভিন্ন স্বাদের সাবুদানার মজাদার খিচুড়ি ও পাকোড়া

একটা সময় ছিল সাবুদানাকে মনে করা হতো শুধু রোগীর পথ্য। অথচ এ সাবুদানা দিয়েই বানানো যায় মজাদার নানা পদ।...

তেল-গ্যাসের বাড়তি দামে মাথা গরমসহ আছে মনের অস্বস্তি
১২ অক্টোবর ২০২৬

তেল-গ্যাসের বাড়তি দামে মাথা গরমসহ আছে মনের অস্বস্তি

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন; কখন গ্যাস পাবেন, আদৌ ট্যাংক ভরতে পারবেন কি না- তা নিয়ে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে