গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মেনু

বৃষ্টির সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্ক অনন্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২৫ এএম ২০২৬
বৃষ্টির সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্ক অনন্য
ছবি

ছবি: সংগৃহীত

বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আর মন বলে ওঠে- খিচুড়ি খিচুড়ি। আসলে বৃষ্টির সাথে খিচুড়ির যেন এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে কেন এমনটা হয়? বৃষ্টি হলেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে? মুখরোচক এ খাবারটিরও আবার রয়েছে নানা ধরন। কেউ বা ভালোবাসে পোলাওর চাল আর মুগ ডালের ভুনা খিচুড়ি। কারো আবার পছন্দের তালিকায় আছে ঝোলসমেত পাতলা ল্যাটকা খিচুড়ি। অনেকে আবার সবজি বা মাংস মিশিয়েও খাবারটি তৈরি করেন।

মূলত খিচুড়ি ছিল বাউলদের খাবার। পথে ঘাঁটে গান করে ঘুরে বেড়াতেন বাউলরা। সে সময় বাড়ি বাড়ি ঘুরে গান শোনাতে গেলে লোকজন তাদের চাল-ডাল দিত। সেগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে বাউলেরা রান্না করে খেতেন। পরবর্তীতে যেটার নাম হলো খিচুড়ি।

এক সময় গ্রামাঞ্চলে বর্ষার সময় চারপাশ অথৈ পানিতে কানায় কানায় ভরে যেত। ঘর থেকে বের হয়ে বাজারে যাওয়া কষ্টকর ছিল। তাই ঘরে থাকা চাল আর ডাল দিয়ে গৃহিণীরা খিচুড়ি রান্না করতেন। আর বৃষ্টিতে কাঠ ভিজে গেলে রান্না করতে সময় লাগে। তাই চাল-ডাল দিয়ে সহজেই তৈরি করা যেত খিচুড়ি।

কখনও কখনও গাছে থাকা কোনো সবজি বা আলু কেটে মিশিয়ে দিতেন খিচুড়িতে। তৈরি হয়ে যেত সবজি খিচুড়ি। ঝড় বৃষ্টির মধ্যে সহজে আর কম সময়ে রান্নার জন্য খিচুড়ি ছিল উপযুক্ত পদ। বহুবছরের সেই ঐতিহ্যই এক সময় পরিণত হয় অলিখিত নিয়মে।

ব্যস্ত নগরজীবনে বৃষ্টির দিন সাময়িক বিরতি এনে দেয়, আর সেই অবসরে সহজ ও আরামদায়ক খাবার হিসেবে খিচুড়ি হয়ে ওঠে প্রথম পছন্দ। পুষ্টিবিদদের মতে, বৃষ্টির দিনে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শরীর গরম খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। খিচুড়ি নরম ও সহজপাচ্য হওয়ায় এটি শরীরের জন্য উপযোগী। পাশাপাশি এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।

বৃষ্টি হলেই শৈশবের স্মৃতিচারণ মনে করেন অনেকে। মায়ের সেই রান্না করা খিচুড়ি ভেসে ওঠে মনের মধ্যে। তাই, বৃষ্টি হলেই ইচ্ছে করে খিচুড়ি খেতে। তাই খিচুড়ি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। হজমে অনেকটা সময় নেওয়ায় এটি এই সময়ের উপযুক্ত খাবার।


বর্ষায় ভিন্ন স্বাদের শাপলা লতার ভর্তা
বর্ষা এলেই হাট-বাজারে দেখা মেলে দেশীয় নানা শাকসবজি ও জলজ উদ্ভিদের। এর মধ্যে শাপলা লতা অন্যতম- যা শুধু সহজলভ্যই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সাধারণত শাপলা লতা দিয়ে ভাজি, ঝোল কিংবা ডাল রান্না করা হলেও একটু ভিন্ন স্বাদ পেতে তৈরি করতে পারেন শাপলা লতার ভর্তা। চিংড়ি, নারিকেল ও সরিষার তেলের ঘ্রাণে তৈরি এই ভর্তা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে দারুণ সুস্বাদু। বর্ষার মৌসুমে ঘরোয়া খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন সহজে তৈরি ঐতিহ্যবাহী এ পদটি। নিচে দেওয়া হলো শাপলার লতা ভর্তার রেসিপি-

উপকরণ: শাপলা লতা (কেটে বেছে নেওয়া) ৩০০ গ্রাম, খোসা ছাড়ানো মাঝারি চিংড়ি ২টি, কোরানো নারিকেল কোয়ার্টার কাপ, রসুন ৬ কোয়া, দেশি পেঁয়াজ ৩টি (চার টুকরা করা), শুকনা মরিচ ৬টি, লবণ এক চা-চামচ, চিনি এক চা-চামচ, লেবুর রস এক টেবিল চামচ ও সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি: প্রথমে শাপলা লতা ভাপ দিয়ে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে চিপে বাড়তি পানি নিংড়ে একটি পাত্রে রাখুন। এরপর একটি ফ্রাইপ্যানে এক টেবিল চামচ সরিষার তেল গরম করে শুকনা মরিচ হালকা ভেজে তুলে রাখুন। একই তেলে চিংড়ি মাছ, কোরানো নারকেল ও আধা চা-চামচ লবণ দিয়ে ভালোভাবে ভেজে তুলে রাখুন। এবার বাকি তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে নিন। কিছুক্ষণ পর শাপলা লতা ও বাকি লবণ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ভাজুন। অতিরিক্ত পানি শুকিয়ে এলে ভাজা চিংড়ি ও নারকেল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। শেষে শুকনা মরিচ, চিনি ও লেবুর রস দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ভাজা ভাজা করে নামিয়ে নিন। সব উপকরণ পাটায় বা শিলপাটায় মসৃণ করে বেটে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

পরামর্শ: শাপলা লতা কাটার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এর গায়ে লালচে-কালো আবরণ পড়ে যেতে পারে। তাই ফুটন্ত পানিতে অল্প সময় ভাপিয়ে নিলে এটি আবার টাটকা সবুজ রং ফিরে পায়। এর পাশাপাশি শাপলা লতার স্বাভাবিক মেটে গন্ধও অনেকটাই দূর হয়ে যায়। ফলে ভর্তার স্বাদ ও ঘ্রাণ আরও ভালো হয়।

কেএমএএ/আপ্র/১৩.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

চল্লিশের পর সম্পর্কে জড়াতে যে ৭ বিষয় জরুরি
২৮ জুলাই ২০২৬

চল্লিশের পর সম্পর্কে জড়াতে যে ৭ বিষয় জরুরি

চল্লিশের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানো বিশের দশকের প্রেমের মতো নয়। বয়স, অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও জীবনের বাস্তবতা...

অতিরিক্ত চিন্তায়ও হতে পারে বুকব্যথা
২৮ জুলাই ২০২৬

অতিরিক্ত চিন্তায়ও হতে পারে বুকব্যথা

অতিরিক্ত চিন্তা, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, অনেক সময় শরীরেও নানা উপসর্গ তৈরি করে...

হিসাব গরমিলে ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব সংকটে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত
২৭ জুলাই ২০২৬

হিসাব গরমিলে ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব সংকটে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত

এক সময় মধ্যবিত্তকে বলা হতো একটি দেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল সামাজিক শ্রেণি। এ শ্রেণিই শিক্ষা, সংস্কৃতি, প...

প্রতিবাদে যাওয়ার প্রস্তুতির যাত্রাপথ এখন জিআরডব্লিউএম
২৭ জুলাই ২০২৬

প্রতিবাদে যাওয়ার প্রস্তুতির যাত্রাপথ এখন জিআরডব্লিউএম

এক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘জিআরডব্লিউএম’ (গেট রেডি উইথ মি) মানেই ছিল অফিসে যাওয়া, কলেজে যাওয়ার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই