গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

দিনে ২১ মিনিটেই সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৮ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২ এএম ২০২৬
দিনে ২১ মিনিটেই সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা অনেক বাবা-মায়েরই বড় আক্ষেপ। অফিসের ব্যস্ততা, ঘরের নানা দায়িত্ব আর ডিজিটাল পর্দায় সময় কাটানোর কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর একটি সহজ কৌশল হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘সাত-সাত-সাত’ নিয়ম বা ‘৭-৭-৭ রুল’।

এই নিয়মের মূল কথা হলো—দিনে তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে সাত মিনিট করে, অর্থাৎ মোট ২১ মিনিট, সন্তানকে একান্ত সময় দেওয়া। তবে সময়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওই মুহূর্তে সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের পূর্ণ মনোযোগ থাকা।

সকালে সাত মিনিট

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সাত মিনিট সন্তানের সঙ্গে কাটানো যেতে পারে। তাড়াহুড়ো না করে পাশে বসে কথা বলা, একসঙ্গে নাশতা করা কিংবা তার দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে হালকা আলাপ করা যেতে পারে।

দিনের শুরুতে বাবা-মায়ের ইতিবাচক মনোযোগ সন্তানকে স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের নিয়মিত যোগাযোগের অভ্যাসও তৈরি করতে পারে।

স্কুল বা বাইরে থেকে ফেরার পর সাত মিনিট

দিনের দ্বিতীয় সাত মিনিট হতে পারে সন্তান স্কুল বা বাইরে থেকে ফেরার পর। সারাদিন বাইরে থাকার পর সন্তানের অনেক কথা বা অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। এ সময় পড়াশোনা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করার পরিবর্তে সে কী বলতে চায়, তা মন দিয়ে শোনা যেতে পারে।

তার দিনটি কেমন কেটেছে, কোনো ঘটনা তাকে আনন্দ দিয়েছে কি না কিংবা কোনো বিষয়ে মন খারাপ হয়েছে কি না—এসব নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা যেতে পারে। এতে সন্তান নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পায় এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ আরো সহজ হতে পারে।

ঘুমানোর আগে সাত মিনিট

দিনের শেষ সাত মিনিট রাখা যেতে পারে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। এ সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করা, বই পড়া কিংবা সারা দিনের সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্ত নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।

ঘুমের আগে বাবা-মায়ের এমন সান্নিধ্য শিশুর মনে স্বস্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রতিদিনের একটি সুন্দর পারিবারিক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ

‘৭-৭-৭’ নিয়মের মূল বিষয় আসলে ২১ মিনিটের নির্দিষ্ট হিসাব নয়; বরং সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত ও মনোযোগী যোগাযোগ তৈরি করা। এই সময়টুকুতে স্মার্টফোন, টেলিভিশন বা অন্য কোনো কাজে মন না দিয়ে সন্তানের কথায় মনোযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুরা সবসময় দীর্ঘ সময়ের বিনোদন বা দামি উপহারের কথা মনে রাখে না। বরং বাবা-মা কখন তাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন, কখন পাশে ছিলেন—এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে প্রতিটি পরিবার ও শিশুর প্রয়োজন এক নয়। তাই ২১ মিনিটকে কঠোর নিয়ম হিসেবে না দেখে বাবা-মায়ের জন্য একটি সহজ স্মরণিকা হিসেবে ব্যবহার করাই বেশি বাস্তবসম্মত। কারো পক্ষে সকালে সাত মিনিট সম্ভব না হলে দিনের অন্য কোনো সময়ে একই ধরনের একান্ত সময় দেওয়া যেতে পারে।

সন্তান পালনে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের হিসাবই সবকিছু নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত যোগাযোগ, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন এমন কিছু নির্ভেজাল সময় বের করতে পারলে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।


এসি/আপ্র/০৯/০৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

যেকোনো বয়সে শরীর বদলাবে ৫ অভ্যাসে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যেকোনো বয়সে শরীর বদলাবে ৫ অভ্যাসে

ফিট ও সুস্থ শরীর গড়ার জন্য বয়স কম হওয়া কিংবা কঠোর ব্যায়াম ও কড়া খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা সবসময় জরুরি নয়।...

সন্তান আসার পর দাম্পত্যে রোমান্স ফেরাবেন যেভাবে
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তান আসার পর দাম্পত্যে রোমান্স ফেরাবেন যেভাবে

একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর পুরো পরিবারের চিত্রই বদলে যায়। নতুন জীবনের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বা...

পেঁয়াজের খোসার পানিতে কি সত্যিই চুল গজায়!
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেঁয়াজের খোসার পানিতে কি সত্যিই চুল গজায়!

রান্নাঘরে প্রতিদিন এমন অনেক কিছুই ব্যবহার করি, যার প্রয়োজন শেষ হলেই জায়গা হয় ময়লার ঝুড়িতে। পেঁয়াজের...

সঙ্গীকে প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিন, সম্পর্ক থাকবে উষ্ণ
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঙ্গীকে প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিন, সম্পর্ক থাকবে উষ্ণ

অফিসের চাপ, একের পর এক সভা, কাজের সময়সীমা ও পারিবারিক নানা দায়িত্ব—সব মিলিয়ে ব্যস্ত জীবনে সঙ্গীকে পর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই