গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

আয় কমার বক্তব্যে আইনজীবী নেতার সঙ্গে কথোপকথনের পর এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২২ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৪:২১ এএম ২০২৬
আয় কমার বক্তব্যে আইনজীবী নেতার সঙ্গে কথোপকথনের পর এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি
ছবি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এজলাস ছাড়েন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী -ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলায় জরিমানার আদেশ নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আপিল বিভাগের আদালতকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এরপর আর আদালত বসেনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ সময় ছিলেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে এর বর্ণনা দেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

যে মামলাকে কেন্দ্র করে ঘটনা: অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আপিল বিভাগ একটি মামলায় আদেশ দেন। একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদন এবং আগের মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রিট আবেদনকারী মো. নূর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কাজল বলেন, আদেশ দেওয়ার সময় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ তার পাশে বসেছিলেন এবং বারবার বলছিলেন, “খোকন ভাই আমাকে কী বিপদে ফেলল।”
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, নূর আলমের পক্ষে মামলাগুলোতে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার খোকন যুক্ত ছিলেন।

জরিমানা মওকুফের অনুরোধ: অন্য একটি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন ব্যারিস্টার খোকন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “একজন জুনিয়র ল’ইয়ার, ৫ লাখ টাকা কস্ট দেওয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেওয়া দরকার।”

ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তিনি বিষয়টি বলেছেন বলে দাবি করেন খোকন। তার ভাষ্য, মামলায় আইনজীবীর জয়-পরাজয় হতে পারে; কিন্তু একজন জুনিয়র আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি।
এরপর কথোপকথনের একপর্যায়ে আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

খোকনের ভাষ্য, “আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।”

তার দাবি, আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝাতেই তিনি এ কথা বলেছেন।

খোকন বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত মামলা শুনানি হতো। এখন একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে। চেম্বার আদালত থেকে কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ হলে পরে সেটি শুনানির জন্য আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে খোকন বলেন, ওই মামলায় সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। কিন্তু মামলাটি এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও তিনি মামলাটি শুনানি করাতে পারেননি।

যেভাবে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি: অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, জরিমানা মওকুফের অনুরোধের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আদালতের সঙ্গে প্রতারণা ও গুরুতর জালিয়াতির বিষয়টি বিবেচনা করেই আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই আদালত ওই আদেশ পরিবর্তন করবে না।

এরপর আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে প্রধান বিচারপতি খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি কি বলতে চাচ্ছেন যে প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে।

কাজলের ভাষ্য, খোকন একই বক্তব্য আবার বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, তার বক্তব্য “অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল।”
এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর দিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। পরে তিনি এজলাস থেকে উঠে যান। তার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চও এজলাস ছাড়ে। তবে ব্যারিস্টার খোকনের দাবি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলা তার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “আমি তো চিন্তা করি নাই যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। উনার তো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আর লইয়ারদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমার অবলিগেশন আছে উনার কাছে লইয়ারদের পক্ষে আবেদন করার।”
অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকদের ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য হতে পারে। তবে তা সাধারণত আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
ব্যারিস্টার খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

যে মামলায় জরিমানা: অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে মামলাটির সূত্রপাত।

যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের নম্বর ছিল ১৪৮২১। সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করার আবেদন এবং স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল চাওয়া হয়।

ওই মামলায় নূর আলম হাই কোর্টে হেরে যাওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। আপিল বিভাগ অস্থায়ী নিয়োগ বাতিল করে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বহাল রাখার আদেশ দেন।

অনীক আর হক বলেন, এরপর ২০১৮ সালে ১৬০৮৮ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করে ২০২১ সালে ১১৪৪৬ নম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৬৩১ নম্বর রিট আবেদন করা হয়।
“এসব মামলার কোনোটিতেই আগের মামলার আদেশ এবং আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে বলা হয়নি। এর মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার আবেদন আনা হয়।”

তিনি বলেন, বিষয়টি একদিনে নিষ্পত্তি হয়নি। টানা তিন দিন শুনানি হয়েছে। শুনানির সময় আপিল বিভাগের রেকর্ড ও পুরনো নথি তলব করে দেখা হয়, একই বাদী ও একই আইনজীবী পরপর একাধিক রিট আবেদন করেছেন এবং আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত রিট আবেদনকারী ও তার আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন বলে জানান অনীক।

তার দাবি, জরিমানা করার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং কোনো ‘উচ্চবাচ্য না করে’ আদালতের আদেশ মেনে নেন।

অনীক আর হক বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা পর ব্যারিস্টার খোকন বিষয়টি নিয়ে আদালতে কথা বলেন। তখন ওই নারী আইনজীবী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

“আমার মনে হয় না যে এখানে ওই নারী আইনজীবী কোনো কিছু করেছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন সাহেব সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে এই কাজটি করেছেন।”

এসব মামলায় ব্যারিস্টার খোকন ফাইলিং আইনজীবীর সিনিয়র হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল।
সানা/আপ্র/৮/৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল

চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছ...

ঢাকার দুই প্রান্ত যুক্ত করবে নতুন মেট্রোরেল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার দুই প্রান্ত যুক্ত করবে নতুন মেট্রোরেল

রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে একই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭...

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, এরশাদ চট্টগ্রামে যান ২৮ মে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, এরশাদ চট্টগ্রামে যান ২৮ মে

মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানালেন প্রসিকিউটর

সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চাই, তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হওয়া উচিত
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চাই, তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হওয়া উচিত

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই