সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আমেরিকান কলেজ অব সার্জনস ও ফাইজার সার্জিক্যাল ভলান্টিয়ারিজম অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ছয়জন বিশিষ্ট সার্জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা ডা. স্টিভেন এম. কেলি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান কলেজ অব সার্জনসের ক্লিনিক্যাল কংগ্রেস ২০২৬-এর বার্ষিক বোর্ড অব গভর্নরসের সংবর্ধনা ও নৈশভোজে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হবে। আমেরিকান কলেজ অব সার্জনসের বোর্ড অব গভর্নরসের সার্জিক্যাল ভলান্টিয়ারিজম অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ডস ওয়ার্কগ্রুপ এ পুরস্কারের আয়োজন করে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ছয় সার্জন হলেন জুয়ান কার্লোস পুয়ানা, স্টিভেন এম. রোসার, ইনগ্রিড এম. লিজারাগা, ব্রায়ান গ্যাভিট, ফিলিপ জে. সু এবং স্টিভেন এম. কেলি।
১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ডা. স্টিভেন কেলি। জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় ৩০ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করছেন তিনি। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের সুনি ডাউনস্টেট হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করার পর মার্কিন বিমান বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ সার্জারি ও বক্ষ সার্জারিতে রেসিডেন্সি ও ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। পরে মেমোরিয়াল ক্রিশ্চিয়ান হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি মিশনারি চিকিৎসাসেবার আহ্বানে বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশে এসে তিনি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রথমবারের মতো ল্যাপারোস্কোপিক, বক্ষ, রক্তনালির এবং উন্নত এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসাপদ্ধতি চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ান। পাশাপাশি ট্রমা ও অস্থি চিকিৎসা, সাধারণ সার্জারি, শিশু সার্জারি, বক্ষ সার্জারি, মূত্রনালি, স্ত্রীরোগ এবং জরুরি সার্জারিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি ৩০ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার করেছেন।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন ডা. কেলি। বাংলাদেশের বহু চিকিৎসক, নার্স, অস্ত্রোপচারকক্ষের কারিগরি কর্মী ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মীকে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মেমোরিয়াল ক্রিশ্চিয়ান হাসপাতালের চিকিৎসা পরিচালক হিসেবে ১ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুটের আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সময়ও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সংকটকালে আহত শত শত শরণার্থীর চিকিৎসায় জরুরি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। সূত্র: নিউজ ওয়াইজ, আমেরিকান কলেজ অব সার্জনস
সানা/আপ্র/২৭/৯/২০২৬