গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

রিকনসিলিয়েশনের আগে আওয়ামী লীগকে অনুতাপ দেখাতে হবে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৯ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:২২ এএম ২০২৬
রিকনসিলিয়েশনের আগে আওয়ামী লীগকে অনুতাপ দেখাতে হবে
ছবি

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান -ছবি সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশনের ধারণাকে খারাপ মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে এ জন্য আওয়ামী লীগকেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর মতে, পুনর্মিলনের মৌলিক শর্ত হলো সংঘটিত অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ। সেই সঙ্গে অপরাধের বিচার ও আইনি জবাবদিহিও অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।

রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও এর ভিত্তি কী হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এখনো দেশের একটি অংশের মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন এবং তাঁদের সবাইকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার বিষয়টিও তিনি দেখছেন না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই মানুষগুলোকে বা যাঁরা আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে করেছেন, তাঁদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া নয়, ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটি কী? কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন হয়?’

পুনর্মিলনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের উদাহরণ তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা রাজনৈতিক দল অপরাধ করলে সেই অপরাধের স্বীকৃতি এবং তা নিয়ে অনুতাপ থাকা প্রয়োজন।

তবে অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকলেও ফৌজদারি অপরাধের বিচার বন্ধ হয়ে যায় না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই আসলে ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না, ওইটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন হতে হয়।’

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি এমন অনুতাপের লক্ষণ দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রধান নেত্রী দলের অবস্থানের জন্য সরকারকে দায়ী করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলটির প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ব্লেম করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। ...তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো, ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন।’

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু করা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘তারা চাইছেন না, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’

তবে তৃতীয় কোনো পক্ষ যদি পুনর্মিলনের উদ্যোগ নিতে চায়, সেটিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, যাঁরা রিকনসিলিয়েশন চান, তাঁদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা উচিত। পুনর্মিলন শুরু করার জন্য যে মৌলিক জায়গাটি প্রয়োজন, সেটি নিশ্চিত করা গেলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি মাঝখান থেকে রিকনসিলিয়েশন চেয়ে থাকেন, তাঁদের যদি মনে হয় এটা ভালো, আমিও মনে করি ভালো, তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলা। আওয়ামী লীগের টপের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরু হওয়ার মতো একদম ফান্ডামেন্টাল যে জায়গাটা, সেটা যেন তাঁরা নিশ্চিত করেন। সেটুকু হলে সেই আলাপ তো হতেই পারে।’

এর আগে সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচকেরা বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলের সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি যেমন জরুরি, তেমনি সমাজের গভীর বিভাজন কাটাতে পুনর্মিলনের উদ্যোগও প্রয়োজন।

ওই আলোচনার প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান সাংবাদিকেরা। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুনর্মিলনের ধারণার সঙ্গে সরকার নীতিগতভাবে একমত হতে পারে, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত পূরণের উদ্যোগ আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। 
সানা/আপ্র/৬/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে
০৬ অক্টোবর ২০২৬

নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে

জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন...

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
০৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ...

ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়ে মোদীর সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক
০৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়ে মোদীর সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক

নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্র...

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে ঢাকা
০৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে ঢাকা

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় মঙ্গলবার সকালে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই