‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না’ - এমন মন্তব্য করা ভাইরাল অডিওর কণ্ঠস্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ইসলামের বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আদালতের অনুমতি নিয়ে কণ্ঠস্বর পরীক্ষা করে এ পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক ওসি রাকিবুলের অডিওটি আদালতের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে যে কণ্ঠ শোনা গেছে, সেটি রাকিবুল ইসলামেরই।’
অডিওতে রাকিবুল কার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কেন ওই বক্তব্য দিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কেন বলেছেন-সবকিছু আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসলে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সজাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যে কোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আইনবিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে ‘দেওয়া হবে না’। জনগণের, বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
‘এই দায়িত্ব পালনে আমরা সচেষ্ট, সজাগ রয়েছি। আমরা যে কোনো অপতৎপরতা রুখে দেব,’ বলেন তিনি।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং এ নিয়ে নিষিদ্ধ দলের কোনো কর্মসূচি বা নাশকতার আশঙ্কায় গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির কর্মকর্তা বলেন, আইনের মাধ্যমে যেসব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব চালাতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কার্যক্রমে নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ে গ্রেফতার অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদপুরে ভেজাল ওষুধের কারবার, গ্রেফতার তিন: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন ওই ফ্ল্যাট থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার ও ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের পাশাপাশি সেগুলো মোড়কজাত করার বিভিন্ন উপকরণও জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধার করা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯২টি কিডজ ওমেগা লিকুইড ১০০ মিলিলিটার সিরাপ, ১০০ বক্স ল্যাকটোফ্লেক্স ক্যাপসুল, ৩০টি ফেসি গ্লো ফেসওয়াশ, ১৫০টি ডেটক্স প্লাস শ্যাম্পু, ৭০টি পিডিয়া ভক্স কিড সিরাপ, ৩০০ পাতা অসেকেয়ার-সিডি ক্যাপসুল, ৫ কেজি অরিভিয়া হ্যাপেস সাদা পাউডার, ৫০টি বায়োকিট অ্যাকটিভ শ্যাম্পু, ৮০০টি কিডকেয়ার সিরাপ প্লাস ১০০ মিলিলিটার, ৭০টি জিরো ড্যান শ্যাম্পু, ৪০টি কিটকোর-জেড শ্যাম্পু এবং ১০টি নিউট্রামাইড সিরাপ।
এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ১৫০টি ইনটা ক্লিন হাইজিন ওয়াশের খালি মোড়ক, মোড়কবিহীন ৮০ বোতল হাইজিন ওয়াশ, ৩০০টি পারমিমাইট সোপের খালি মোড়ক, ৮০টি স্পিরুভা বা স্পিরুলিনা লিফলেট, ১০০টি ফেসওয়াশের পলিথিন, ৩০০টি লেবেলবিহীন সিরাপের বোতল, ৪০০টি সাদা প্লাস্টিকের কৌটা, ১০০টি লেবেলবিহীন সাদা ট্যাবলেট এবং ৫০০টি সবুজ রঙের খালি ক্যাপসুল।
ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল বা পলিথিন, ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুটি লেবেল লাগানোর সাঁচও জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি ওয়ারী বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে শিশুদের ব্যবহারের কয়েক ধরনের সিরাপ ও লিকুইড পণ্য রয়েছে। ভেজাল ও অনুমোদনহীন এসব পণ্য শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ভেজাল ওষুধ কেনাবেচার উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, এসব ওষুধের উৎস, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী এবং এ কাজে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
সানা/আপ্র/৭/১০/২০২৬