জাতীয় সংসদে বীর মুক্তিযোদ্ধার সর্বশেষ সংখ্যা, তাদের ভাতা-সুবিধা, কৃষি খাতের সার বিতরণ, ভূমি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং পরিবেশ ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সংসদে জানান, মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। বুধবার সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় এমপি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী জানান, আপাতত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় নেই। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণেরও কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানান তিনি। তবে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে প্রতি বছর চার হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয় এবং স্বীকৃত হাসপাতালে ভর্তি হলে মন্ত্রণালয় বিল পরিশোধ করে থাকে।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় জীবননগরে পাঁচতলা ভিতের ওপর তিনতলা কমপ্লেক্স নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ২৪টি পরিবারকে ৭৩২ বর্গফুট আয়তনের ‘বীর নিবাস’ প্রদান করা হয়েছে।
গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে। ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগের মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট বা সংশ্লিষ্ট তালিকা বাতিল করা হয়েছে। জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
কৃষি খাতের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বিসিআইসি ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে এবং বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ক্যাশ মেমোর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পেঁয়াজ সংরক্ষণে রাজবাড়ীর বিভিন্ন উপজেলায় এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পেঁয়াজের অপচয় ২৫–৩০ শতাংশ থেকে কমে ২–৪ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।
ভূমি খাতে দুর্নীতি দমনে ১১টি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ই-নামজারি ও হটলাইনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে অনিয়ম কমানোর চেষ্টা চলছে। ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হলে দুর্নীতির সুযোগ প্রায় শূন্যে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজশাহীর বাগমারায় অবৈধ পুকুর খনন রোধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মিন্টু জানান, চাপাইনবাবগঞ্জে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের কোনো প্রকল্প না থাকলেও বৈদেশিক অর্থায়নে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে খাল-পুকুর পুনঃখনন, বনায়ন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পর্যটন খাত উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় স্থানগুলো চিহ্নিত করে অবকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়াকে পাহাড় ও হাওড়ের মিলনস্থল হিসেবে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র বা ‘টুরিস্ট হাব’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এসি/আপ্র/১৫/০৪/২০২৬