গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মেনু

সংসদে উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন ও বিরোধী দলের বিষয়ে বক্তব্য

সম উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০০:৪১ এএম ২০২৬
সম উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ছবি

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

বিরোধী দলের নির্বাচনি এলাকাসহ দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ এবং জনগণের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব ও বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন: সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বা আইনে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক আসন নেই। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে তাদের কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের যেমন নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অধিকার রয়েছে, তেমনি সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদেরও মানুষের জন্য কাজ করার অধিকার রয়েছে। সরকারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের কোনো বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।”

পরবর্তীতে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি সংসদ পরিচালনা-সংক্রান্ত এক বৈঠকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কিছু উন্নয়ন সহায়তা না পাওয়ার বিষয় উত্থাপিত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করবে সরকার: সরকারবিরোধী সমালোচনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। ফলে গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

পাঁচ জেলায় চালু হচ্ছে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, এই ই-হেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থা এবং ইলেক্ট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

১৮০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অগ্রগতি: প্রধানমন্ত্রী জানান, নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির প্রি-পাইলট পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার-প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৬৬৬টি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খনন ও পুনঃখনন করা খালের মোট দৈর্ঘ্য ৯৬৫ দশমিক শূন্য ৪ কিলোমিটার।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষা ঋণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উদ্যোগ: বিদেশে ভাষা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জামানতবিহীন ঋণের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার আগেই যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌর কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ আটটি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নির্দেশ: প্রশাসনিক কার্যক্রম বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিয়োগ-বদলি-পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সেবা হয়রানিমুক্ত ও বিলম্বমুক্ত রাখতে কঠোর তদারকির নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী: রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।  অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের এগিয়ে নিতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধা। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এসময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্বস্ত নাম। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। সেনাপ্রধান জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ১৭৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ২৮৭ জন।

সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
২৮ জুলাই ২০২৬

প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ...

গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
২৮ জুলাই ২০২৬

গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের...

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করলো চীন
২৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করলো চীন

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের জন্য ১৪০তম চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার (ক্যান্টন ফেয়ার)...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুত ইসি, ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়
২৮ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুত ইসি, ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটের দিনক্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই