বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান রাত ১০টার দিকে সংবাদমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন। পরে আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলের শতাধিক চেয়ার ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। রাতে সদর হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিমের মৃত্যুহয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে আসার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েকশ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এখনো কোানো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। এতে আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়।’
হামলার পর বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জানান, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঝিনাইগাতীর ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, সব প্রার্থীকে নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বসা নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসি/আপ্র/২৯/০১/২০২৬