প্রযুক্তি ডেস্ক: চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াল্ট ডিজনি। এর মাধ্যমে ডিজনির চরিত্র ব্যবহার করবে ওপেনএআইয়ের ভিডিও তৈরির এআই টুল সোরা।
ওপেনএআই ও আমেরিকান বিনোদন জায়ান্ট ডিজনির মধ্যে তিন বছরের চুক্তি হয়েছে। যার আওতায় সোরা’তে কেবল লেখার মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েই খুব সহজে ছোট ভিডিও বানাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
এসব ভিডিওতে ডিজনি, মার্ভেল, পিক্সার ও স্টার ওয়ার্সের দুইশোটিরও বেশি চরিত্র যেমন– মিকি মাউস, আয়রন ম্যান, এলসা, ডার্থ ভেডার ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান।
হলিউডে এআইয়ের কারণে বিনোদনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে তার মধ্যেই এই মাইলফলক চুক্তির খবর দিলো কোম্পানি দুটি। তবে, এই চুক্তির আওতায় চরিত্রের মতো দেখতে মানুষ বা তাদের কণ্ঠ ব্যবহার করা যাবে না। কেবল কার্টুন বা কাল্পনিক চরিত্র ব্যবহার করা যাবে। এ চুক্তির প্রশংসা করে ডিজনির সিইও বব আইগার বলেছেন, এতে তাদের কোম্পানির ‘প্রসিদ্ধ গল্প ও বিভিন্ন চরিত্রকে’ ওপেনএআইয়ের এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন তারা। এ চুক্তির ফলে ‘ডিজনির ভক্তরা কল্পনা ও সৃজনশীলতা ব্যবহার করে এমনভাবে ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি’।
সোরার বিতর্কিত প্রচলন ও বিনোদন শিল্পের অনেক কর্মীর এআইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিবাদের পর ওপেনএআইয়ের হলিউডে নেওয়া সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ এ চুক্তিটি।
এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর ভয় ও অনুমতি ছাড়াই নিজেদের ছবি বা কণ্ঠ ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনোদন শিল্পের অনেক কর্মী, বিশেষ করে লেখক, অভিনেতা, ভিজুয়াল ইফেক্ট শিল্পী ও অন্যান্য সৃজনশীল ব্যক্তিরা। এ কারণে বিভিন্ন এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আন্দোলন ও কপিরাইট মামলাও হয়েছে। নিজেদের বিভিন্ন চরিত্রের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ডিজনিও। অক্টোবরে এআই স্টার্টআপ ‘ক্যারেক্টার এআই’কে ‘সিজ অ্যান্ড ডিজিস্ট’ নামের কঠোর এক চিঠি পাঠিয়েছে বিনোদন কোম্পানিটি। চিঠিতে তারা অভিযোগ করেছিল, কোম্পানিটির বিভিন্ন চরিত্রের চেহারা ব্যবহার করে ডিজনির কপিরাইট ‘পরিষ্কার লঙ্ঘন করছে’ প্ল্যাটফর্মটি।
এদিকে, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছেন, হাজির হয়েছিলেন জিমি ফ্যালনে’র টক শোতেও।