গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪১ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৭ এএম ২০২৬
প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি

ছবি সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, এর সক্ষমতা কী এবং কখন সেটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে মহাকাশ কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, মহাকাশে পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।

মহাকাশে বাড়ছে সামরিক প্রতিযোগিতা

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আগেও জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভবিষ্যৎ সংঘাতে রাশিয়া ও চীন মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা এবং সেগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তৈরি করছে।

সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনে স্যাটেলাইটের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ফলে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।

এই ব্যবস্থার লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতির সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি মেইঙ্ক।

তবে তার বক্তব্যে মহাকাশকে শুধু প্রতিরক্ষার ক্ষেত্র নয়, সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

মহাকাশে অস্ত্র নিয়ে ১৯৬৭ সালের চুক্তি

১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে অন্য ধরনের মহাকাশ অস্ত্রের ক্ষেত্রে ওই চুক্তিতে একই ধরনের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা নেই।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান সামরিক শক্তিগুলো মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করে আসছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট শনাক্ত করা, যোগাযোগে বাধা দেওয়া এবং স্যাটেলাইট অকার্যকর করার প্রযুক্তিও রয়েছে।

ফলে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ রয়েছে।

আক্রমণাত্মক সক্ষমতায় জোর স্পেস ফোর্সের

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে নতুন শাখা।

এর মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত শত শত মার্কিন স্যাটেলাইটসহ মহাকাশে থাকা দেশটির বিভিন্ন সম্পদ সুরক্ষা করা।

তবে গত বছর ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে স্পেস ফোর্সের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ’-এর আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটানো, তা দুর্বল করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার মতো কার্যক্রমও থাকতে পারে। এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

রাশিয়া-চীনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

মহাকাশে রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন নয়।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায়, দুটি রুশ স্যাটেলাইট সম্ভবত ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে। এসব হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দারা স্যাটেলাইটে আদান-প্রদান করা সংবেদনশীল তথ্য পড়তে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এসব স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে। তবে রাশিয়া তখন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাকাশ ও প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতা মোকাবিলার প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়াও মহাকাশকে যুদ্ধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য একটি নির্ণায়ক বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এসি/আপ্র/১৫/০৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

নিয়োগকর্তাকে না জানিয়েই চাকরি ছাড়ার সেবা জাপানে
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়োগকর্তাকে না জানিয়েই চাকরি ছাড়ার সেবা জাপানে

জাপানে বস বা নিয়োগকর্তাকে সরাসরি না জানিয়েই চাকরি ছাড়ার সহায়তা নিতে শুরু করেছেন অনেক কর্মী। কর্মক্ষে...

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আলোচনার দরজা খোলা রাখলেন ট্রাম্প
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আলোচনার দরজা খোলা রাখলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্...

ডিএনএ মিলিয়ে জানা গেল দুই বন্ধু আসলে দুই বোন
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিএনএ মিলিয়ে জানা গেল দুই বন্ধু আসলে দুই বোন

নেদারল্যান্ডসের মিনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিসেনের বন্ধুত্বের গল্প শুরু হয়েছিল কৈশোরে। প্রথম দেখায় দুজনের...

খুব গরম চা-কফিতে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুব গরম চা-কফিতে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে

খুব গরম চা-কফি পান করলে খাদ্যনালীর একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণের সঙ্গে সম্প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই