রান্নাঘরে কাঠের তৈরি চামচ, কাটিং বোর্ড, মগ, প্লেট, বাটি ও বিভিন্ন ধরনের পাত্রের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। এগুলো তুলনামূলক হালকা এবং ব্যবহারে আরামদায়ক হলেও পরিষ্কার ও সংরক্ষণে একটু বেশি যত্ন প্রয়োজন।
কাঠ সহজেই তেল ও আর্দ্রতা শোষণ করে। ফলে রান্নার তেল, খাবারের দাগ ও ময়লা কাঠের গায়ে আটকে থাকতে পারে। ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে এসব পাত্রে দুর্গন্ধও তৈরি হতে পারে। তাই কাঠের বাসন পরিষ্কারে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন
কাঠের বাসন পরিষ্কারের শুরুতেই গরম পানি ও বাসন পরিষ্কারের সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কাঠের চামচ বা নকশা করা বাটির খাঁজ, কোণা এবং খাবারের কণা আটকে থাকতে পারে এমন জায়গাগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
শুকিয়ে যাওয়া খাবার বা জমে থাকা দাগ দূর করতে নরম স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। খুব শক্ত কিছু দিয়ে ঘষাঘষি না করাই ভালো। এতে কাঠের ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাবান দিয়ে পরিষ্কার করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
লেবুর রস বা সাদা ভিনেগার
প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার করার পর কাঠের পাত্রে সামান্য লেবুর রস দিয়ে ঘষে নিতে পারেন। লেবু না থাকলে সাদা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।
লেবুর রস বা ভিনেগার ব্যবহারের পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিয়ে আবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে কাঠের পাত্রে থাকা কিছু গন্ধ ও ময়লা দূর করতে সহায়তা করতে পারে।
লবণ ও বেকিং সোডার মিশ্রণ
জেদি দাগ পরিষ্কারে লবণ, বেকিং সোডা ও সামান্য পানি মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করা যায়। এটি কাঠের বাসনের ওপর লাগিয়ে নরম স্পঞ্জ বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করুন।
কাঠের চামচ, কাটিং বোর্ডসহ বিভিন্ন পাত্রের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারে এই পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে। প্রয়োজনে লেবুর খোসাও ব্যবহার করা যায়।
ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন
পরিষ্কার করার পর কাঠের বাসন পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে পানি মুছে ফেলুন। এরপর বাতাস চলাচল করে এমন খোলামেলা জায়গায় সোজা করে রেখে দিন।
কাঠের বাসন শুকানোর জন্য দীর্ঘ সময় কড়া রোদে রাখা উচিত নয়। অতিরিক্ত তাপে কাঠ বেঁকে যেতে বা ফেটে যেতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবে বাতাসে শুকিয়ে নেওয়াই ভালো।
নিয়মিত পরিষ্কার এবং সঠিকভাবে শুকিয়ে রাখলে কাঠের চামচ, কাটিং বোর্ডসহ রান্নাঘরের অন্যান্য কাঠের সামগ্রী দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
সূত্র: গুড হাউজকিপিং, লুস ডট এসজি
এসি/আপ্র/১৫/০৯/২০২৬