গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জন পেলেন চাকরি

গুমের ঘটনায় বিচার-জবাবদিহিতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:১৫ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০৮ এএম ২০২৬
গুমের ঘটনায় বিচার-জবাবদিহিতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের কাছে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি পিএমও

গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭৪ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক পৃথক বাণীতেও গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সীমিত সম্পদের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, “যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবু আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে আনন্দের ও বেদনার। কারণ এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করা হচ্ছে, যাঁদের আজ তাঁদের পরিবারের মাঝে থাকার কথা ছিল; কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাঁরা নেই। তাঁদের মহান ত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা, বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
বড় অর্জনের জন্য যাঁরা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁরা দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, তাঁরা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে জীবন বাজি রেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে।

সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের অন্যতম প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে মনে করতে পারেন সরকার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তাঁদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। “আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস”-বলেন তিনি।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারের কাজে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে সরকার কাজ করতে চায়। এ জন্য তিনি তাঁদের সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করেন।

গুমের বিচারে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গুম বা জোরপূর্বক অন্তর্ধান বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর অন্যতম এবং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম কিংবা জোরপূর্বক অন্তর্ধানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুমের মতো অপরাধ সাধারণত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয় ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম ও অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর গুম ও অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের আটক রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলো জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে ওই সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। তিনি এসব ঘটনাকে মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

ভবিষ্যতে গুম ও জোরপূর্বক অন্তর্ধান বন্ধে আইনি কাঠামো গড়ে তোলার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম বা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা কিংবা একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও এতে থমকে যায়। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এমন এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যার কোনো সমাপ্তি নেই; এমনকি স্বাভাবিকভাবে শোক পালনের সুযোগও তাঁরা পান না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি: চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৯/৮/২০২৬

 

এসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল

চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছ...

ঢাকার দুই প্রান্ত যুক্ত করবে নতুন মেট্রোরেল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার দুই প্রান্ত যুক্ত করবে নতুন মেট্রোরেল

রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে একই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭...

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, এরশাদ চট্টগ্রামে যান ২৮ মে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, এরশাদ চট্টগ্রামে যান ২৮ মে

মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানালেন প্রসিকিউটর

সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চাই, তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হওয়া উচিত
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চাই, তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হওয়া উচিত

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই