গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বাজার স্থিতিশীল, ঋণ-চ্যালেঞ্জ ও প্রশাসনিক নির্দেশনা

ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪১ এএম ২০২৬
ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
ছবি

রোববার চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সংস্কার, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।
সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এতে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে।
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে দায়িত্ব শুরু: উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে।’ তিনি আরো বলেন, আড়াই মাসে কিছু অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নয়। সরকারের সামনে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জনসেবায় সততা ও দক্ষতার নির্দেশ: ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শুধু পদোন্নতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িক লাভ হলেও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি হয়।” জনপ্রশাসন জনগণের সঙ্গে সরকারের সংযোগের মূল মাধ্যম বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং মাঠ প্রশাসনকে জনসেবামুখী হওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না এবং জনরায়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়। অতীতের নির্বাচনি অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা দেশের মানুষ দেখেছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ: বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ইচ্ছেমতো বাড়ানো বা সিন্ডিকেট তৈরি করা যাবে না। তিনি বলেন, মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।

প্রশাসনিক সেবায় হয়রানি বন্ধ ও মোবাইল কোর্ট জোরদার: সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজর দিতে ডিসিদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান ও কার্যকর করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, অনলাইন জুয়া ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজসহ ৯৪ জন সহযোগী গ্রেফতার হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদবির করলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বাজার তদারকি, কৃষি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনা: প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সার-বীজ সহজলভ্য করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি সন্ধ্যা ৭টার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জ্বালানি অপচয় রোধের আহ্বান জানান।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তরুণদের সম্পৃক্ততা: তরুণদের বিপথগামী হওয়া রোধে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে সারাবছর কার্যকর রাখতে হবে।

সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায় যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেন।

সম্মেলনের কাঠামো ও অংশগ্রহণ: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন এবং চারটি আনুষ্ঠানিক অধিবেশন রয়েছে। সম্মেলন চলাকালে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করবেন।
সানা/আপ্র/৪/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাক...

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে