গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

গ্যাস সংকটে রান্নায় বাড়ছে বিদ্যুতের নির্ভরতা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩৫ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫৯ এএম ২০২৬
গ্যাস সংকটে রান্নায় বাড়ছে বিদ্যুতের নির্ভরতা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীতে টানা গ্যাস সংকটে আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এত কম থাকছে যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন চুলা ও রাইস কুকারে রান্না করছেন। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি সংসারের মাসিক ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাসিন্দারা জানান, ভোর কিংবা গভীর রাত ছাড়া দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। কোথাও কোথাও চুলায় আগুন জ্বললেও একটি তরকারি রান্না করতেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রাজিয়া আক্তার বলেন, সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যাচ্ছে।

মিরপুরের বাসিন্দা রুকাইয়া জানান, কয়েকদিন ধরে দুপুর ও রাতের রান্না প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায়ই হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে, যা পরিবারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব সিএনজি খাতেও পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে স্বল্পচাপের কারণে অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের আয় কমে যাচ্ছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি—সব খাতেই এর প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে একই সমস্যার মুখোমুখি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। কর্মজীবী পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। রান্নার জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

মঙ্গলবার তিতাস গ্যাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরো ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও সমস্যা অব্যাহত থাকবে।

এসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

এবার চিনিতেও মিললো ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক
২৯ জুলাই ২০২৬

এবার চিনিতেও মিললো ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চিনিতে ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন...

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
২৯ জুলাই ২০২৬

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের...

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ছয় বাংলাদেশি নিহত, নারায়ণগঞ্জে শোক
২৯ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ছয় বাংলাদেশি নিহত, নারায়ণগঞ্জে শোক

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (কোমানি) শহরের একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব...

চলতি বছরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা
২৮ জুলাই ২০২৬

চলতি বছরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা

চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 16 ঘন্টা আগে