গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

মেনু

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সম্পর্কের বরফ গলানোর বার্তা, বাণিজ্য–বিনিয়োগ–জ্বালানি–রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর আলোচনা; বাংলাদেশের ভ্রমণ সতর্কতা কমাল যুক্তরাষ্ট্র

খলিলুর–সার্জিও বৈঠকে ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩৩ এএম ২০২৬
খলিলুর–সার্জিও বৈঠকে ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ছবি এক্সে পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর -ছবি সার্জিও গরের এক্স হ্যান্ডল থেকে

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত মিলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বৈঠকে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ আরও গভীর করার বার্তা এসেছে এই বৈঠক থেকে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। সফরের প্রথম দিনেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দুই পক্ষ থেকেই আসে ইতিবাচক বার্তা।

সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দুই পক্ষের

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা খুব ভালো হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একটি বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছে এবং সব পর্যায়েই সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সার্জিও গর বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সার্জিও গরের এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়; বরং বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী ওয়াশিংটন
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সেই সময়ের পর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে নানা আলোচনা ছিল।

সার্জিও গরের সফরকে সেই প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। অন্যদিকে বাংলাদেশও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বৈঠকে ভারত, চীন কিংবা আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।

র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এটি আলোচনায় আসেনি।

জ্বালানি সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।

বাংলাদেশের ভ্রমণ সতর্কতা কমাল যুক্তরাষ্ট্র
সার্জিও গরের ঢাকা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা কমানোর সিদ্ধান্তে।

বৈঠকের পর সার্জিও গর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বার্তা দিয়ে জানান, বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা তৃতীয় স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে নামানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আস্থার প্রতিফলন।

এর আগে বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা ছিল তৃতীয় স্তরের। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা বহাল রয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্রমণ সতর্কতা কমানোর সিদ্ধান্ত শুধু পর্যটন বা যাতায়াতের বিষয় নয়; এটি একটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

রোহিঙ্গা সংকটেও সহযোগিতা চায় ঢাকা
সার্জিও গরের সফরে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে আসছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ আশা করে। একই সঙ্গে এই সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় উদ্যোগে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা
সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক ইস্যুগুলো আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় ঢাকার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব রয়েছে।

সার্জিও গরের সফরের শুরুতেই দুই দেশের পক্ষ থেকে যে ইতিবাচক বার্তা এসেছে, তা ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে এই সম্পর্ক কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতির ওপর।
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এক চাকরিতে ২৮৭ আবেদন, শ্রমবাজারে চাপ বাড়ছে
৩১ জুলাই ২০২৬

এক চাকরিতে ২৮৭ আবেদন, শ্রমবাজারে চাপ বাড়ছে

দেশের আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে চাকরির প্রতিযোগিতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সরকারি এক গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাই...

নিজেই গাড়ি চালিয়ে নগরীর পরিচ্ছন্নতা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
৩১ জুলাই ২০২৬

নিজেই গাড়ি চালিয়ে নগরীর পরিচ্ছন্নতা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রাতে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রশাসককে দিলেন দিকনির্দেশনা

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৫ জন
৩০ জুলাই ২০২৬

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৫ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্...

প্রধানমন্ত্রীকে রক্তে ভেজা ঐতিহাসিক পতাকাটি তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা আজিজুর
৩০ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে রক্তে ভেজা ঐতিহাসিক পতাকাটি তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা আজিজুর

মাথায় গুলির গুরুতর ক্ষত ও শরীরে বহন করা অন্তত ৩৬টি স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দীর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই