জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের দুই জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হবিগঞ্জে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর দুই দফায় আটকে দিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে নেতারা পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে পুলিশ বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বাহুবলে আটকা গাড়িবহর, রাস্তায় বসে নেতারা: বুধবার (২৯ জুলাই) মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহরকে বাহুবল উপজেলার মুছাই এলাকায় আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃষ্টির মধ্যেও তারা প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, “হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছিল পুলিশ। সেখানে ট্রাক দিয়ে সড়ক বন্ধ করে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় এনসিপির গাড়িবহর। তবে বাহুবলে গিয়ে আবারও তাদের আটকে দেওয়া হয়।
মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা ব্যারিকেড অতিক্রম করে চলে যান।”
হবিগঞ্জে হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা: এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। দলটির নেতারা দাবি করেন, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
দলীয় সূত্র জানায়, ওই ঘটনার পর বুধবার হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। অন্যদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনা তৈরি হলে প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হাতাহাতি: এদিকে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এনসিপির কর্মসূচিতেও উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নগরের জামালখান এলাকায় এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা শাহেদ বক্সের নেতৃত্বে একদল কর্মী তাদের কর্মসূচিতে এসে বাধা দেয় এবং নেতাকর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় বিএনপি নেতা শাহেদ বক্স তাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহেদ বক্স বলেন, তিনি উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে তিনি উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন, যাতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে: এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের এসব ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে এনসিপি নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৯/৭/২০২৬