গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

কবিতা===

নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের পাঁচটি কবিতা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৮ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৬ এএম ২০২৬
নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের পাঁচটি কবিতা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

অ্যান কারসনের ‘ডিক্রিয়েশন’ গ্রন্থের পাঁচটি কবিতা অনুবাদ করেছেন অরুণাভ দাস। তিনি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলিনা, কলম্বিয়ায় ইংরেজি সাহিত্যের পিএইচডি গবেষক, লেখক, অনুবাদক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা

রবিবার
ধোয়া কাপড়গুলো সন্ধ্যার ধূসর মুখে
অস্থির পাখির ডানার মতো কাঁপে।
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে ঠান্ডা জমে।
পাতারা নিজেদের আরও কাছে টেনে নেয়।
রান্নাঘরের আলো জ্বলে—
ঘর যেন ধীরে ধীরে তার একাকিত্ব চিনতে শেখে।
সন্ধ্যার নরম, ভেজা রহস্যগুলো
অন্ধকারের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দরজা খুলে দেয়।
মাকে ফোন করার সময় হয়েছে।
ফোনটা বাজুক।
ছয়বার।
সাতবার।
আটবার- তারপর
তিনি রিসিভার তোলেন;
কিন্তু কথার আগে দীর্ঘ এক নীরবতা থাকে।
দূরের ফাঁপা অন্ধকারে
মাঠ-ইঁদুরেরা শুকনো পাতার মতো
নিঃশব্দে ছুটে বেড়ায়।

বিধিরেখা
মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখি। ফোনের পাশে বইগুলোর পিঠ।
পেপারক্লিপ চীনামাটির পাত্রে। 
ডেস্কজুড়ে ভুলে থাকা রবারের ধুলো।
মা বলেন আকুল হয়ে মৃত্যুর কথা। 
আমি সব পেপারক্লিপকে অন্যদিকে মুখ ফেরাই।
জানালার বাইরে তুষার সোজা রেখা হয়ে পড়ছে। 
আমার মাকে,
আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে, 
আমি বলি ব্রাঞ্চে কী খেয়েছি। 
তুষারের রেখাগুলো নেমে আসে
আরও দ্রুত এখন। 
নিয়তি যেন তাদের প্রান্তে ভার বেঁধে দিয়েছে- 
আমাদের দূরে সরাতে। 
আমি চাই তাকে বলতে- 
এও হয়তো ঈশ্বরের করুণা। 
তিনি আর কথা বাড়াবেন না,
তিনি আমার বিল বাড়াবেন না। 
অলৌকিকতা নিঃশব্দে আমাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। 
সেই পেপারক্লিপগুলো চিরকালীনভাবে সারিবদ্ধ। 
ঈশ্বরের করুণা! 
আর কতকাল এভাবে জ্বলবে হৃদয়- 
স্নেহশীল হতে চাওয়া শিশুটি বলেছিল।

আমাদের নিয়তি
সন্ধ্যার ঘরে মায়ের শেষ শেখানো কথাটি
পশ্চিম আকাশ ভেঙে দেয়, 
সব হিসাবের দরজা বন্ধ করে।
রাতে জানালায় চোখ রাখো-
মানুষদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে।
ওরা আসলে আমরা-
ঘরের ভেতরে থাকার জন্য একদিন অজুহাত ছিল আমাদের।
দিন এলো; আমরা ফল কেটেছিলাম, 
আর সঙ্গে কেটে ফেলেছিলাম গাছটিকেও। 
এখন আমরা বাইরে।
এভাবেই তো এক পুরোনো ঋণ শোধ হলো।

এখন আর কোনো আশ্রয় নেই
নিশ্বাস আর মৃত্যুর প্রাগৈতিহাসিক টানাপড়েনে 
আরেক রাতের ঘুম এসে জোটে।
আমরা আমাদের ঘরটি অন্য কারও 
হাতে তুলে দেওয়ার কথা মেনে নিই।
সবকিছু মিলে যে জীবন,
তার টুকরোগুলোই বা কোথায় হারাল?
নিঃশব্দে পাতা, জানালা-
সবই যেন অপেক্ষায় থাকে।
খালি কাপড়ের দড়ি ঢালু অন্ধকারের 
বুক চিরে চলে যায়।
হারিয়ে যাওয়া আকাশের আলোর 
পোশাকের জন্য শোক তুলে
দেবদূত আর উড়ে যাওয়া ধুলোজঞ্জাল 
আমাদের বন্ধ ফটক পেরিয়ে 
ডাকতে ডাকতে সরে যায়।

আজ তার দাম্পত্যের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল
শীত প্রাচীন রোমান দেয়ালটিকে লক্ষ্য 
করে নিজের শোকের ভাষণ দেয়।
তীব্র আলো- (ভুবন ভরা)
আর ছায়ারা থেমে থাকে
নেমে আসতে থাকা গুণ্ঠনের অপেক্ষায়।
মস্তিষ্কের অনুরণন দুবার,
এক চিমটি লবণের জন্য।
ওভিদই কী বলেছিলেন-
এখানে এমন বাতাস যে পাথরগুলোও 
ফিকে হয়ে যায়।

কেএমএএ/আপ্র/২৩.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শামসুর রাহমানের কবিতায় নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট ও কষ্ট
২৩ অক্টোবর ২০২৬

শামসুর রাহমানের কবিতায় নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট ও কষ্ট

জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি===

এক প্রহরের বৃষ্টি
২৩ অক্টোবর ২০২৬

এক প্রহরের বৃষ্টি

কবিতা===

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে