গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

৫২ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ‘এক টাকার মাস্টার’

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ১৬:০১ পিএম, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৫ এএম ২০২৬
৫২ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ‘এক টাকার মাস্টার’
ছবি

ছবি সংগৃহীত

গাইবান্ধার প্রত্যন্ত জনপদে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন এক অসাধারণ মানুষ। তার নাম Lutfar Rahman। তবে এলাকায় তিনি বেশি পরিচিত ‘এক টাকার মাস্টার’ নামে।

৭৮ বছর বয়সেও তিনি থেমে যাননি। প্রতিদিন গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ান। বিনিময়ে নেন মাত্র এক টাকা।

নদীভাঙন থেকে শুরু শিক্ষাযুদ্ধ

Lutfar Rahman–এর জন্ম ১৯৪৮ সালে Gaibandha জেলার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া গ্রামে। একসময় সচ্ছল পরিবারে জন্ম হলেও ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ নদীভাঙনে তাদের সবকিছু হারিয়ে যায়।

অর্থাভাবে নিজের পড়াশোনা থেমে গেলেও থেমে থাকেননি তিনি। সেই সময় থেকেই দরিদ্র শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানো শুরু করেন। প্রতিদিন মাত্র এক টাকা করে পারিশ্রমিক নিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রা আজ ৫২ বছরের ইতিহাস।

এখনো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ান

বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের ওয়াপদা বাঁধ এলাকায় বসবাস করেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও এখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে শিশুদের পড়ান।

বাগুড়িয়া, মদনের পাড়া, ঢুলিপাড়া, কঞ্চিপাড়াসহ আশপাশের বহু গ্রামের শিশুরা তার কাছে পড়তে আসে। অনেক পরিবার, যারা ভালো কোচিং বা শিক্ষক বহন করতে পারে না, তাদের জন্য ভরসার নাম এই ‘এক টাকার মাস্টার’।

তার ছাত্ররাই আজ প্রতিষ্ঠিত

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার হাতে গড়া বহু শিক্ষার্থী আজ শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যাংকার ও আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

একজন অভিভাবক বলেন, তার সন্তানদের পর এখন নাতি-নাতনিরাও একই শিক্ষকের কাছে পড়ছে। আরেকজন জানান, তার মেয়েরা এই শিক্ষকের কাছেই পড়েছে; এখন কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যাংকে চাকরি করেন।

পরিবারের অভাব ভুলে মানুষের জন্য কাজ

তার বড় ছেলে জানান, দরিদ্র শিশুদের পড়াতে গিয়ে পরিবারকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু বাবা কখনো নিজের স্বার্থের কথা ভাবেননি। এখন সন্তানরা স্বচ্ছল হলেও তিনি এখনো পড়ানো ছাড়েননি।

শিক্ষাই তার নেশা

Lutfar Rahman বলেন, শুরুতে সংসারের অভাব মেটাতে পড়ানো শুরু করলেও পরে এর মধ্যেই আত্মতৃপ্তি খুঁজে পান। তিনি বিশ্বাস করেন—

“একজন শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কখনোই দরিদ্র হতে পারে না।”

মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত মেয়ে পুরো পরিবারকে আলোকিত করতে পারে।

সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকেরা বলছেন, এমন নিঃস্বার্থ মানুষ সমাজে খুব কমই দেখা যায়। তাদের মতে, রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত এই প্রবীণ শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানো।

গ্রামীণ জনপদে নীরবে-নিভৃতে শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া Lutfar Rahman আজ শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং মানবিকতা ও ত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক।

এসি/আপ্র/১৬/০৫/২০২৬

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সেতুর বাইপাস থেকে মোটরসাইকেলসহ সবুজের লাশ উদ্ধার
২৯ অক্টোবর ২০২৬

সেতুর বাইপাস থেকে মোটরসাইকেলসহ সবুজের লাশ উদ্ধার

সুজাউদ্দৌলা সুজন, জামালপুর: সড়কের একদিকে মোটরসাইকেল, আরেকদিকে পড়ে থাকা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে...

এমএফসের অপব্যবহার তদন্ত ও প্রতিরোধ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
২৯ অক্টোবর ২০২৬

এমএফসের অপব্যবহার তদন্ত ও প্রতিরোধ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

এস এ খান শিল্টু মেহেরপুর: মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফস) অপব্যবহার তদন্ত ও প্রতিরোধ বিষয়ক স...

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি
২৯ অক্টোবর ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ছুটির পর সড়ক প...

দিনব্যাপী নিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
২৯ অক্টোবর ২০২৬

দিনব্যাপী নিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর এ ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রকল্পের আয়োজনে ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর অর্থায়নে ২৯...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে