গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

খুলনায় পাটকলসহ ৪৪ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ

এসএম ফরিদ রানা, খুলনা প্রতিনিধি

এসএম ফরিদ রানা, খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৮ এএম ২০২৬
খুলনায় পাটকলসহ ৪৪ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ
ছবি

বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে দাবি তুলে ধরেন ছ খুলনার পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতারা -ছবি আজকের প্রত্যাশা

রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছে খুলনার পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। একই সঙ্গে বন্ধ পাটকল চালু, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ এবং রাষ্ট্রীয় শিল্প রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৯ জুলাই) খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২০ সালের ২ জুলাই লোকসানের কারণ দেখিয়ে দেশের ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। অথচ একই সময়ে বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বক্তারা দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোর সংকটের মূল কারণ হিসেবে প্রশাসনিক অদক্ষতা, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) দুর্নীতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার স্বাধীনতার অভাবকে চিহ্নিত করা যায়। তাদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান না করে পাটকল বন্ধ করে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশের শিল্প খাতের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, দেশের চিনির চাহিদা পূরণে আরো বেশি চিনিকলের প্রয়োজন থাকলেও রাষ্ট্রীয় ১৫টি চিনিকল কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। একই সঙ্গে ২০১০ সালে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে প্রণীত ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। আইনটি কার্যকর করা হলে দেশে পাটপণ্যের বড় বাজার তৈরি হতো বলে দাবি করেন বক্তারা।

লিখিত বক্তব্যে পাটশিল্পের বর্তমান সংকটের জন্য সরকারি অবহেলা, বিজেএমসির দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিগত ভূমিকাকেও দায়ী করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বন্ধ ২৫টি পাটকল পুনরায় চালু, লোকসানের কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিজেএমসির প্রশাসনিক সংস্কার, স্থানীয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট কার্যকর বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় শিল্প পরিচালনায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং পাটকল ও বন্ধ চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, সদস্য সচিব এস. এ. বাকলিদ, সদস্য সুতপা বেদজ্ঞসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৯/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
২৯ জুলাই ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়...

চট্টগ্রামে ৯০ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেটসহ একজন গ্রেফতার
২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ৯০ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেটসহ একজন গ্রেফতার

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিম...

দিনাজপুর পৌর উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা নিয়ে সমাবেশ
২৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুর পৌর উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা নিয়ে সমাবেশ

দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবা আরো জনবান্ধব করা এবং শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয়...

খালে ইয়াবা ফেলেও রক্ষা পেলেন না দুই মাদক কারবারি
২৯ জুলাই ২০২৬

খালে ইয়াবা ফেলেও রক্ষা পেলেন না দুই মাদক কারবারি

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে খালের পানিতে ইয়াবার প্যাকে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 21 ঘন্টা আগে