গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

খুলনাঞ্চলে তরমুজের ব্যাপক ফলন, ৭২৩ কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫০ এএম ২০২৬
খুলনাঞ্চলে তরমুজের ব্যাপক ফলন, ৭২৩ কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

খুলনাঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে এবার রসালো ফল তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এতে ৭২৩ কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর খুলনাঞ্চলে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ করতে না পারলেও মৌসুমে সম্ভাব্য প্রায় ৪১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা লাভের আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় এবার তরমুজ বিক্রির টার্গেট করা হয়েছে ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে এই টার্গেট পূরণ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ ও তরমুজ চাষিরা।   

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৫৫ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৭ হাজার ২৯১ হেক্টরের বিপরীতে অর্জন ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর, বাগেরহাট জেলায় ১৩৩ হেক্টরের বিপরীতে অর্জন ১৬৪ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলায় ৬১৮ হেক্টরের বিপরীতে ৪৭১ হেক্টর ও নড়াইল জেলায় ১৩ হেক্টরের বিপরীতে অর্জন ১৯ হেক্টর জমি।  

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিঘা প্রতি তরমুজের উৎপাদন সংখ্যা ৭০০-৮০০টি এবং বিঘা প্রতি তরমুজের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা করে। আর বিঘাপ্রতি তরমুজ বিক্রি হবে ৭০ হাজার টাকা। একজন কৃষক বিঘা প্রতি তরমুজ উৎপাদনে ৪০ হাজার টাকা লাভ করবে। 

১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের মোট উৎপাদন (প্রতি বিঘায় ৭০০ টি হলে) ৭ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ২০০টি এবং (প্রতি বিঘায় ৮০০টি হলে) ৮ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টি। অর্জিত ১৩,৮১০ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদন খরচ ৩১০ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্জিত ১৩,৮১০ হেক্টর জমির সম্ভাব্য মোট বিক্রয় মূল্য ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে লাভ হবে ৪১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত অর্থবছরে এই অঞ্চলের প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও প্রান্তিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এ বছর তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। যে কারণে এ বছর এই অঞ্চলে তরমুজ চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়নি। চলতি অর্থ বছরে এই অঞ্চলে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ হাজার ২৪৫ হেক্টর কম চাষাবাদ হয়েছে। 

খুলনাঞ্চলের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে খুলনা জেলার বাজুয়া, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, মোংলার বানিয়াশান্তাসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভের কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন তরমুজ চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। 

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তরমুজ চাষে বড় লাভের মুখ দেখবে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত তরমুজ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

দাকোপ উপজেলার কৈল্লাশগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণটানা ব্লকের কৃষক ইন্দ্রজিং বলেন, আমি এবার কয়েক বিঘা জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ২৮-৩০ হাজার টাকা। এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘাতে আট থেকে নয়শ পিস তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। আশা করি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে ভালো লাভ হবে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হালিয়া ব্লক) মোহাম্মাদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমার ব্লকে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ক্ষেতে কৃষক এখন পরিচর্যা, কীটনাশক প্রয়োগ ও সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করছে। কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা না দিলে কৃষকরা লাভবান হবে। 

দাকোপ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা করুনা কান্ত সরকার বলেন, চুনকুড়ি ব্লকে ৪০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে। পরিচর্যাসহ পানির সঙ্গে সার মিশিয়ে সেচের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে এবং মাতৃ পোকা (ফলের মাছি) দমনের জন্য সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই এলাকার কৃষকেরা এবার তরমুজ চাষে লাভবান হবে। 

তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ দিন পর থেকে তরমুজ তোলা শুরু হবে।  

খুলনার দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৮টি ব্লক নিয়ে দাকোপ উপজেলা। খুলনাঞ্চলের মধ্যে দাকোপ উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয়ে থাকে। চলতি অর্থ বছরে এই উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে কৃষকের ক্ষেতের তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং কৃষক দামও কম পেয়েছে। এসব কারণে এ বছর অনেক কৃষকই তরমুজের আবাদ করেননি। 

তিনি বলেন, উপজেলার কৃষকেরা ক্ষেতের পরিচর্যাসহ পানির সঙ্গে সার মিশিয়ে সেচের সঙ্গে মাতৃ পোকা (ফলের মাছি) দমনের জন্য সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপন করছেন। এ বছর তরমুজ চাষিদের চাহিদানুসারে সার, বীজ ও কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এই এলাকার কৃষকেরা তরমুজ চাষে সফলতার মুখ দেখবে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর তরমুজ তোলা শুরু হবে। 

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনাঞ্চলে চলতি অর্থ বছরে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৫৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর। গত বছর খরার কারণে তরমুজ চাষিদের চরম ক্ষতি হয়। ফলন কম হয় এবং কৃষক তরমুজের দামও কম পায়। এ কারণে অনেক কৃষকই এ বছর তরমুজ চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে তরমুজের আবাদ কমেছে। তবে এবার কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ (কালবৈশাখি, ঝড়, শিলা বৃষ্টি, খরা) না হলে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তরমুজ চাষে সফলতা ও লাভের মুখ দেখবে।

এসি/আপ্র/০৫/০৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

কম দামে ইউরিয়া সার দিতে আগ্রহী রাশিয়া
২৮ জুলাই ২০২৬

কম দামে ইউরিয়া সার দিতে আগ্রহী রাশিয়া

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ...

সরবরাহ সংকটে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ৩০০ টাকা
২৮ জুলাই ২০২৬

সরবরাহ সংকটে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ৩০০ টাকা

সরবরাহ কমে যাওয়ায় বগুড়ার কাঁচামরিচের বাজারে আবারো ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা দিয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধান...

৫ বছরে খাদ্য মজুত সক্ষমতা হবে ৩৪ লাখ টন
২৮ জুলাই ২০২৬

৫ বছরে খাদ্য মজুত সক্ষমতা হবে ৩৪ লাখ টন

দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি খ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 16 ঘন্টা আগে