বর্তমান সময়ের হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় ও গুণী তারকাদের একজন আয়ুষ্মান খুরানা। বলিউডে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই তারকা। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আন্ধাধুন’ সিনেমায় অভিনয়ের পর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। শক্তিশালী অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েও দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তিনি।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ৪২ বছরে পা দিয়েছেন আয়ুষ্মান খুরানা। প্রায় দুই ডজন সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভিকি ডোনার’ ছিল তার অভিনীত প্রথম সিনেমা। তবে সিনেমাটির জনপ্রিয় গান ‘পানি দা’-তেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। অভিষেক সিনেমাতেই অভিনয় ও গানের জন্য শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা এবং শ্রেষ্ঠ গায়কের ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান আয়ুষ্মান।
তার বর্তমান জনপ্রিয়তা অবশ্য রাতারাতি তৈরি হয়নি। ‘ভিকি ডোনার’-এর পর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘দম লাগা কে হইশা’, ‘বরেলি কি বরফি’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘বধাই হো’, ‘আন্ধাধুন’, ‘আর্টিকল ১৫’, ‘ড্রিম গার্ল’ ও ‘বালা’।
বিশেষ করে ‘আন্ধাধুন’ সিনেমায় অন্ধ পিয়ানোবাদকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান আয়ুষ্মান। এই সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মানও অর্জন করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও আয়ুষ্মানের রয়েছে সফলতা। ‘পানি দা’ ছাড়াও ‘মেরে লিয়ে তুম কাফি হো’, ‘ইয়াহি হুঁ ম্যায়’, ‘সাদি গালি আজা’ এবং ‘ন্যায়না না জোড়ি’র মতো গানে কণ্ঠ দিয়ে কোটি শ্রোতার মন জয় করেছেন তিনি।
তবে তারকা হয়ে ওঠার পেছনের সংগ্রামের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। ১৯৮৪ সালে চণ্ডীগড়ে জন্ম নেওয়া আয়ুষ্মানের অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ডিএভি কলেজে পড়ার সময়। নিজেই একটি থিয়েটার দল প্রতিষ্ঠা করে মঞ্চে অভিনয় করেছেন। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে করে মুম্বাই যাওয়ার সময় সহযাত্রীদের গান শুনিয়ে আনন্দ দিতেন তিনি।
স্বপ্নের শহর মুম্বাইয়ে শুরুর দিনগুলোও সহজ ছিল না। থাকার জায়গা না থাকায় এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন। সেখানে জায়গা ছিল খুবই কম। এক রাতে বন্ধুর সঙ্গে তার প্রেমিকার ঝগড়ার কারণে তাদের মাঝখানেই ঘুমাতে হয়েছিল বলেও জানা যায়। পরে অন্য এক বন্ধুর আশ্রয়ে একটি মেডিক্যাল হোস্টেলে থাকতে শুরু করেন তিনি।
তবে এসব প্রতিকূলতা তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছাত্রজীবন থেকেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে ধীরে ধীরে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। ২০০৪ সালে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি অনুষ্ঠান ‘রোডিজ’ জয় করে প্রথম বড় পরিচিতি পান আয়ুষ্মান। এরপর সঞ্চালক হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেন। ছোট পর্দায় একাধিক কাজের পর ধীরে ধীরে বড় পর্দায় প্রতিষ্ঠা পান তিনি।
এত সাফল্য ও খ্যাতির পরও সাধারণ জীবনদর্শনে বিশ্বাসী আয়ুষ্মান। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের উপলব্ধি জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। মানুষের কাছে যা আছে, তা হলো বর্তমান সময়। তাই প্রতিটি দিনকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়ে উপভোগ করাই তার জীবনের দর্শন।
এসি/আপ্র/১৪/০৯/২০২৬