আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশে ব্যাপক কর রেয়াত ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর ফলে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে পারে, যদিও কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান কর অব্যাহতি ও শুল্ক সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাতে। প্রস্তাবিত সুবিধা কার্যকর হলে দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ওয়াশিং মেশিন, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও মনিটরের দাম কমতে পারে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনেও কর রেয়াত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিং, চোখের লেন্স, শিশুখাদ্য এবং চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর চিন্তাভাবনা চলছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারদর কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও স্বস্তির খবর আসতে পারে। তাদের ওপর বর্তমানে আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার অংশ হিসেবে কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাজুবাদাম, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার সামগ্রী, সিগারেটের কাগজ, বিদেশি মদ, প্রসাধনী, উচ্চমূল্যের মাছ এবং নিকোটিনজাত পণ্য। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
এ ছাড়া সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে। আমদানি করা বিলাসপণ্য ও উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করা এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এবারের বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসি/আপ্র/০৯/০৬/২০২৬