দেশের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল শিখন পদ্ধতি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)–এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অনুমতিতে পরিচালিত ‘ডিজিটাল গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষা প্রকল্প’-এর লক্ষ্য হলো গণিত ও বিজ্ঞানভীতি দূর করা, কোভিড-পরবর্তী শিক্ষাবৈষম্য কমানো এবং মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান ও বাস্তব প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের দক্ষতা বাড়ানোও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দক্ষ শিক্ষক, উপযুক্ত শিখনসামগ্রী ও স্বশিক্ষার সুযোগের অভাবে গণিত ও বিজ্ঞানে পিছিয়ে রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ সফল হলে সারা দেশের সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় কার্যকর একটি শিক্ষামডেল সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দক্ষ শিক্ষকই শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। প্রকল্পের ডিজিটাল টিচিং গাইড শিক্ষকদের পাঠদানকে আরো সৃজনশীল ও কার্যকর করবে।
জাইকার অর্থায়নে ‘গ্রাসরুটস টেকনিক্যাল কো-অপারেশন’ কাঠামোর আওতায় পরিচালিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাপানের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ই-এডুকেশন’ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন। মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘ব্যাকবন লিমিটেড’।
মাউশি জানিয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা হবে। ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও শিখন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাবৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৪ ও ২৫ জুলাই চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার বাজাপ্তী রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় ও গন্ডামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের ফল ইতিবাচক হলে চাঁদপুরের সব উপজেলায় পাইলটিং সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেবে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, চাঁদপুরে পাইলট প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের পর পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একটি আধুনিক শিখন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক একই ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসামগ্রী, ক্লাস নোট ও অনুশীলন সহজে ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে অভিভাবকেরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্তানের উপস্থিতি ও শিক্ষার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, জাইকা, বুয়েট ও ই-এডুকেশনের পাশাপাশি দেশে গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় কাজ করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একই বিদ্যালয়ে কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত ফল পাওয়া যাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, লাইভ মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের মাধ্যমে প্রকল্পটি সারা দেশে সম্প্রসারিত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
এসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬