ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক আফরোজা শেলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সঙ্গে আরও চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাদেকা হালিম আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক অভিযোগ রয়েছে এবং প্রতিটি অভিযোগের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তিনি জানান, প্রথমে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা অব্যাহতি পাবেন।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের নানাবিধ অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬