ডা. তপন বাড়ৈ =======
পাইলস বা অর্শ মলদ্বারের একটি পরিচিত সমস্যা। মলদ্বারের নিচের অংশের রক্তনালি ফুলে যাওয়া, বড় হয়ে ঝুলে পড়া অথবা সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হলে তাকে সাধারণত পাইলস বা অর্শ বলা হয়।
পাইলস হওয়ার কারণ
চিকিৎসকদের মতে, বিভিন্ন কারণে পাইলস হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
* বংশগত বা অর্জিত শারীরিক প্রবণতা।
* পরিবারের কারও পাইলসের ইতিহাস থাকা।
* দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা আমাশয়।
* গর্ভাবস্থায় মলদ্বারের রক্তনালিতে চাপ বৃদ্ধি।
* মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা।
* দীর্ঘদিনের কাশি।
* নিয়মিত ভারী জিনিস বহনের কাজ করা।
* অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি।
পাইলসের সাধারণ লক্ষণ
পাইলস হলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
* মলত্যাগের সময় ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীন রক্তক্ষরণ।
* মলদ্বারে অস্বস্তি বা খোঁচা লাগার মতো অনুভূতি।
* মলদ্বারে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা।
* মলদ্বারে ফোলা বা আঙুরের থোকার মতো গুটি তৈরি হওয়া।
* পাইলসের গুটি বাইরে বেরিয়ে আসা।
চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. তপন বাড়ৈর মতে, রোগের অবস্থা জটিল পর্যায়ে না গেলে লক্ষণ সাদৃশ্য অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অনেক রোগী উপকার পেতে পারেন।
তিনি জানান, রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী নাক্স ভমিকা, পালসেটিলা, থুজা, সালফার, এস্কিউলাস হিপ, রাটান হিয়া ও এসিড নাইট্রিকসহ বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
তবে পাইলসের ক্ষেত্রে সঠিক রোগ নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত ব্যথা বা জটিল উপসর্গ থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
রোগীর করণীয় ও বর্জনীয়
পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি-
* খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখতে হবে।
* নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
* নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
* পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।
* ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, শুকনা ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
ডা. তপন বাড়ৈ
বি এইচ এম এস (ঢাবি), এমপিএইচ (নিউট্রিশন)
প্রভাষক, ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
চেম্বার: এস বি হোমিওপ্যাথিক সেন্টার, ঢাকা
মোবাইল: ০১৯২২৫২৫৮৫৩
সানা/আপ্র/৩০/৭/২০২৬