গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড তৈরি

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৪ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৮ এএম ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড তৈরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কিউআর কোড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যার আকার মাত্র ১ দশমিক ৯৮ বর্গ মাইক্রোমিটার। ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ক্ষুদ্র এই কোড ইতোমধ্যে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড হিসেবে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একদল গবেষক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কোডটি তৈরি করেছেন। চার্জযুক্ত কণার সূক্ষ্ম রশ্মি প্রয়োগ করে বিশেষ ধরনের সিরামিকের ওপর খোদাই করা হয়েছে এই ক্ষুদ্র নকশা, যা তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এই কিউআর কোড এতটাই ছোট যে সাধারণ আলোতে বা খালি চোখে তা দেখা সম্ভব নয়। এমনকি প্রচলিত আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও এটি পর্যবেক্ষণ করা যায় না। কোডটি দেখতে প্রয়োজন হয় ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের।

গবেষকদের মতে, এর সূক্ষ্ম গঠন এতটাই নিখুঁত যে এটি তৈরি করাই ছিল একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-এটি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার পড়ার উপযোগী।

বিশেষ সিরামিকের ওপর খোদাই করা এই কোড কয়েক শতাব্দী ধরে তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম। বর্তমানে ব্যবহৃত চৌম্বকীয় ও ইলেকট্রনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার তুলনায় এটি অনেক বেশি স্থায়ী বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা।

এই সিরামিক উপাদান সাধারণত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কাটার যন্ত্রে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। ফলে ক্ষুদ্র হলেও এর গঠন দীর্ঘ সময় অক্ষত থাকবে।

গবেষকদের মতে, আধুনিক তথ্যসংরক্ষণ পদ্ধতিগুলো আশ্চর্যজনকভাবে ক্ষণস্থায়ী। এই প্রেক্ষাপটে সিরামিকভিত্তিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রাচীন সভ্যতার শিলালিপির মতো দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প হতে পারে।

তারা মনে করছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান সংরক্ষণে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এতে সংরক্ষিত তথ্য পড়তে কোনো বিদ্যুৎ বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

এই প্রযুক্তির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ধারণক্ষমতা। গবেষকদের মতে, এর পরিধি বাড়ানো গেলে একটি সাধারণ কাগজের পাতায় দুই টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষক দল এখন এই প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করার পরিকল্পনা করছে। তারা তথ্য লেখার গতি বাড়ানো, ভিন্ন উপাদান ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী পদ্ধতি তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

এছাড়া, প্রচলিত কিউআর কোডের চেয়েও জটিল তথ্য কাঠামো কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সিরামিকের পাতলা স্তরে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, এই প্রযুক্তি কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বিস্তৃত হবে এবং তথ্য সংরক্ষণের ধরণে মৌলিক পরিবর্তন আনবে।


সানা/ডিসি/আপ্র/৩১/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

অনিয়ন্ত্রিত এআই ঠেকাতে নিরাপত্তায় টেক জায়ান্টরা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়ন্ত্রিত এআই ঠেকাতে নিরাপত্তায় টেক জায়ান্টরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবাধ বিকাশে বৈশ্বিক ঝুঁকির আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্...

যে যে উপায়ে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে যে উপায়ে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই

আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে, এমন শঙ্কার কথা প্র...

আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের ক্যামেরায় এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। শুধু মেগা...

নিজের ছবিকে আশির দশকের লুকে সাজাবেন যেভাবে
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের ছবিকে আশির দশকের লুকে সাজাবেন যেভাবে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আশির দশকের আদলে ছবি তৈরির প্রবণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই