গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন শি-পুতিন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৬:৪২ এএম ২০২৬
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন শি-পুতিন
ছবি

বুধবার বেইজিংয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন -ছবি সিএমজি

বেইজিংয়ের গণমহাভবনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিক বৈঠকশেষে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন।  বুধবার (২০ মে) বিকালে এই সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি বলেন, এটি ছিল প্রেসিডেন্ট পুতিনের ২৫তম চীন সফর, যা চীন-রাশিয়া সম্পর্কের উচ্চতা ও বিশেষত্ব তুলে ধরে। কিছুক্ষণ আগে আমি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ একটি বৈঠক করেছি এবং ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কৌশলগত যোগাযোগ করেছি।

তিনি আরো বলেন, পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতা আরো জোরদার এবং সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গভীরতর করাসংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সাক্ষী হয়েছি।

শি জের দিয়ে বলেন, চলতি বছর পালিত হচ্ছে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী। গত ৩০ বছরে, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেছে, এবং সম্পর্কের উচ্চতা ক্রমাগত উন্নীত হয়ে ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে, নতুন যুগের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। এটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

শি আরো বলেন, চলতি বছর চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। বহু বছর ধরে, দুই দেশ এই চুক্তিতে নির্ধারিত ‘জোট নিরপেক্ষতা, সংঘর্ষ না-করা, ও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে না থাকার’ নীতি কঠোরভাবে মেনে এসেছে, এবং সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সততা, এবং সহযোগিতাপূর্ণ বিজয়ের নীতি অনুসরণ করে চলেছে। এটি আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও সুবিচার রক্ষা করতে এবং নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও আমার যৌথ কৌশলগত দিকনির্দেশনায়, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক একটি নতুন সূচনায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষেরই শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং যৌথ বিজয়ের সময়ের প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো উচ্চ মানের উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করা উচিত।

চীনের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, প্রথমত, উচ্চতর মানের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করতে হবে। রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা চীন-রাশিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং এটি চীন-রাশিয়া চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তির উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি; দ্বিতীয়ত, উচ্চতর মানের পারস্পরিক সুবিধাপূর্ণ সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে হবে এবং যৌথভাবে নিজ নিজ দেশের উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে অগ্রসর হতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক সকল ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং অনেক ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ টানা তৃতীয় বছরের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং এই বছরের প্রথম চার মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; তৃতীয়ত, উচ্চতর মানের মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত আরো মজবুত করতে হবে; চতুর্থত, উচ্চতর মানের আন্তর্জাতিক সমন্বয় পরিচালনা করতে হবে এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারও সম্পন্ন করতে হবে।

এ সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, বর্তমানে রাশিয়া-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশ সবসময় পারস্পরিক সম্মান, সমতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থনের চেতনা বজায় রেখে, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে ধারাবাহিকভাবে গভীরতর করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-চীন সম্পর্কের উন্নয়নের পেছনে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি রয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতা কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনও এর ওপর প্রভাব ফেলে না। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন তিনি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা ঠিক করেছেন বলেও জানান পুতিন।

পুতিন আরো বলেন, রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। রাশিয়া চীনের সঙ্গে একযোগে অংশীদারত্ব ও সুপ্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব আরো জোরদার করবে; জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে; এবং উভয় দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সমন্বয় বজায় রাখবে, জাতিসংঘ সনদের নিয়ম ও নীতিমালা রক্ষা করবে, এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে বজায় রাখবে। সূত্র: সিএমজি
সানা/আপ্র/২১/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
২৯ অক্টোবর ২০২৬

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম...

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও আসনস...

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন...

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় বিমানবালা ক্যারল ফেয়ার ৮৩ বছর বয়সে অবসরে গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে