রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলায় দলের বহিষ্কৃত নেতা মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাবের দাবি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি মূল আসামি পারভেজের কাছে সরবরাহ করেছিলেন লেদু। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, বাদশা হত্যা মামলার আসামিদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লেদুর নাম এসেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী আদাবর থানা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন লেদু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অস্ত্র সরবরাহে ভূমিকা রাখেন।
গত ১ জুলাই রাতে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড়ে জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা (৪৫) এবং একই ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাদশার মৃত্যু হয়।
র্যাব জানায়, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লেদুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বাদশা হত্যা মামলায় নাম আসার পর তাকে পুনরায় বহিষ্কার করা হয়।
র্যাবের দাবি, দলে ফেরার পর লেদু এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছিলেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেদুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও দারুস সালাম থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন লেদু। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৪। একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে।
বাদশা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আদাবর থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ডিবি রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০), মিজানুর রহমান (৪০), সুমন (২৫) ও শহীদকে (৫৯) গ্রেফতার করেছে। এছাড়া আদাবর থানা পুলিশ সোয়েব হোসেন, আরমান ও নয়নকে গ্রেফতার করেছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার লেদুকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৯/৭/২০২৬