অতিরিক্ত চিন্তা, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, অনেক সময় শরীরেও নানা উপসর্গ তৈরি করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বুকব্যথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্যন্ত্র সুস্থ থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে বুকে ব্যথা, চাপ অনুভব, ধড়ফড়ানি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গের সঙ্গে মিল রাখে।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়, বুকের পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যেতে পারে। এর ফলেই বুকে চাপ, তীব্র ব্যথা, ধড়ফড়ানি, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্যানিক অ্যাটাকের সময় অনেকেই এসব উপসর্গকে হার্ট অ্যাটাক বলে ভুল করেন। আবার অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে দ্রুত ও অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন) হলে রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমে যায়, যা বুকের অস্বস্তি, হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব এবং মাথা হালকা লাগার কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ঘাড়, কাঁধ ও বুকের পেশিকে টানটান করে রাখে। এই স্থায়ী পেশি-সংকোচনও বুকব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে প্রকৃত শারীরিক ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। চাপের সময় শরীর সম্ভাব্য বিপদের প্রতিক্রিয়ায় পেশিকে শক্ত করে রাখে। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে পেশি আর স্বাভাবিকভাবে শিথিল হতে পারে না। ফলে টেনশনজনিত মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, কোমরব্যথার পাশাপাশি বুকেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, বুকব্যথাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যদি হঠাৎ তীব্র বুকব্যথা শুরু হয়, ব্যথা হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে, অথবা এর সঙ্গে ঘাম, বমিভাব কিংবা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে তা হৃদ্রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকের পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রে কোনো সমস্যা না পাওয়া গেলে এবং উপসর্গের সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্ক থাকলে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা প্রয়োজন। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, ক্যাফেইন কম গ্রহণ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস উদ্বেগজনিত বুকব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন
এসি/আপ্র/২৮/৭/২০২৬